ছবি সংগৃহিত
উৎসবের আবহে সিলেটজুড়েও শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনকে ঘিরে সিলেট নগরী ও আশপাশের এলাকাজুড়ে বিরাজ করছে আনন্দ, ভক্তি ও সম্প্রীতির এক অনন্য পরিবেশ।
মণ্ডপে মণ্ডপে শৈল্পিক প্রতিমা, বর্ণিল আলোকসজ্জা, ফুলের সাজসজ্জা আর ঢাকের ছন্দময় বাদ্য উৎসবের আবহকে করেছে প্রাণবন্ত। কোথাও দেবী দুর্গার প্রতিমায় ফুটে উঠেছে মাতৃত্ব ও মমতার স্নিগ্ধ রূপ, কোথাও আবার অসুরবিনাশিনী শক্তির প্রতীকী প্রকাশ। সন্ধ্যা নামতেই আলোর ঝলকানিতে মণ্ডপগুলো যেন রূপ নেয় একেকটি শিল্পিত আঙিনায়। ধূপের সুগন্ধ, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পূজাপ্রাঙ্গণ। ভক্তদের প্রার্থনায় ধ্বনিত হয় শান্তি, মঙ্গল ও কল্যাণের আকাঙ্ক্ষা।
ষষ্ঠীর পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসবের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় রয়েছে গভীর তাৎপর্য। দেবীকে আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে মর্ত্যে বরণ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সূচিত হয় শারদীয় উৎসবের মূল পর্ব। পূজার প্রতিটি আচার, প্রতিটি মন্ত্রোচ্চারণ আর অঞ্জলির ফুলে মিশে থাকে বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের দীর্ঘ ইতিহাস। দেবী দুর্গার আগমন ভক্তদের কাছে কেবল ধর্মীয় আয়োজন নয়; এটি অশুভের বিনাশ, শুভশক্তির জাগরণ এবং ন্যায় ও সত্যের প্রতিষ্ঠার প্রতীক।
সিলেটের পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিবারের মতো এবারও ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধন উৎসবকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। প্রতিমা নির্মাণে শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া, মণ্ডপসজ্জায় নান্দনিক পরিকল্পনা এবং আলোকসজ্জার বৈচিত্র্য দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।
সিলেটের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। দুর্গোৎসবের আনন্দে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের বার্তাকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মানবিকতা সবার-এমন চেতনাই উৎসবকে দেয় সর্বজনীনতার মর্যাদা। ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের মধ্যে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার বন্ধন দৃঢ় হলে উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।
