ছবিঃ সংগৃহীত
পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ অর্জনে ছেলেরা এগিয়ে রয়েছে। এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী। গত ২১ বছরের মধ্যে এটিই সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সর্বনিম্ন পাসের হার।এর আগে ২০০৫ সালের পরীক্ষায় সর্বনিম্ন ৪৪.৪০ ভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছিল। সিলেট শিক্ষা বোর্ডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস ইয়াসমিন এই তথ্য জানান।
এবারের ফলাফলে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও পাসের হার আশানুরূপ হয়নি। অর্ধেকেরও কম ব্যবধানে পাসের হার ৫০ শতাংশের কিছু বেশি থাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ফলাফল নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৭২ হাজার ৭৪৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২৯ হাজার ২১৭ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৫২৮ জন। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা অনেক এগিয়ে ছিল। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল ৫২ হাজার ৫৪০ জন। বাকিরা অনিয়মিত, মানোন্নয়ন ও প্রাইভেট পরীক্ষার্থী।
ফলাফলে পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ অর্জনে ছেলেরা এগিয়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২০৪ জন। তবে সামগ্রিক পাসের হার গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
জেলাভিত্তিক পরীক্ষার্থীর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সিলেট জেলা থেকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। জেলার ১৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩১ হাজার ২১৫ জন। সুনামগঞ্জ জেলার ৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১৩ হাজার ৮৭০ জন, মৌলভীবাজার জেলার ৫৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ হাজার ৭৩৯ জন এবং হবিগঞ্জ জেলার ৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ হাজার ৯২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।
গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছিল। গত বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ৬৯ হাজার ১৭২ জন। সে হিসাবে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৩ হাজার ৫৭৩ জন।
তবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও পাসের হারের চিত্র সন্তোষজনক নয়। এর আগে ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার তুলনায় ২০২৫ সালে সিলেট বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৮২ জন কমে গিয়েছিল। পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় এমন বড় ধরনের পতন তখনই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও ফলাফলে প্রত্যাশিত উন্নতি না হওয়ায় সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার মান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
