সিলেটে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কারণে ফল খারাপ হয়েছে: পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:৫০
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় ফল খারাপ হওয়ার পেছনে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াছমীন। তিনি বলেছেন, এবার বোর্ডে ১৯ হাজার ৭৬০ জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৮ হাজার ৬৫১ জন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ফল বিপর্যয় প্রসঙ্গে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ‘এইবার ২১ বছরের মধ্যে এইবারই রেজাল্টে ধস নেমেছে আপনারা যেটা বলছেন, আসলে আমি ওইভাবে বিশ্লেষণ করব না, আমি ধসের কথা বলব না। এবার যেটা হলো, যেমন আমরা এসএসসিতেও দেখেছি, আমাদের রেজাল্ট কিন্তু ওইভাবে আর যে আমি পরীক্ষার হলে বসলেই আমি পরীক্ষায় পাস করব, সেটা কিন্তু না। আমাদের বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন মানদণ্ড কিন্তু এখানে নির্ধারণ হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘স্কুল-কলেজে আমাদের নানাভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশনা এসেছে, বাচ্চাদের পড়াশোনা করতে হবে। অন্য বোর্ডের রেজাল্টের তুলনায় আমাদের সিলেট শিক্ষা বোর্ডের রেজাল্ট আলহামদুলিল্লাহ অনেক ইমপ্রুভড। গতবার কিন্তু অভিন্ন প্রশ্ন ছিল না। এবার অভিন্ন প্রশ্ন।’
পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও খাতা মূল্যায়ন প্রসঙ্গে বিলকিস ইয়াছমীন বলেন, ‘বাচ্চারাও পড়াশোনা করছে, বাচ্চারাও টেবিলমুখী হয়েছে, পড়ামুখী হয়েছে, কারণ মন্ত্রী মহোদয় ঘোষণা দিয়েছেন পড়তে হবে। সেই মোতাবেক আমাদের পরীক্ষক, নিরীক্ষক এবং হেড এক্সামিনার প্রত্যেকের যৌথ প্রচেষ্টাতেই কিন্তু একটা বাচ্চার রেজাল্ট হয়। আমরা বোর্ড কিন্তু কিছু জানি না, হেড এক্সামিনার, এক্সামিনার, নিরীক্ষক তিনজনের যৌথ কাজের মাধ্যমে কিন্তু একটা বাচ্চার রেজাল্ট প্রস্তুত হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবার আসলে আমাদের পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা অনিয়মিতরাই বেশি ছিল, অনেক বেশি অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল। আমাদের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কারণে রেজাল্টটা কিছুটা ডাউন হয়েছে। এবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ১৯ হাজার ৭৬০ জন ছিল, পাস করেছে ৮ হাজার ৬৫১ জন।’
সবাই ফেল করা তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এবার শতভাগ পাস করেছে ছয়টা কলেজ এবং কেউ পাস করেনি এরকম তিনটা প্রতিষ্ঠান আছে। ৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হবিগঞ্জে একটা প্রতিষ্ঠান, সুনামগঞ্জে দুটা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সুনামগঞ্জে কিছুটা হয়তো রিমোট এরিয়া আছে। তথাপি ওখানে মাঝে মাঝে বাচ্চারা নিয়মিত হয়তো কলেজে যাওয়ার আশা করতে পারে না, এটা হয়তো একটা কারণ। বন্যার একটা প্রকোপ ছিল তখন।’
ফল খারাপ হওয়ার পেছনে কয়েকটি বিষয়ের কথাও উল্লেখ করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। তিনি বলেন, ‘ইংরেজি, কেমিস্ট্রি, জিওগ্রাফি, লজিক এবং আইসিটি- এই ধরনের কিছু সাবজেক্টের কারণে কিছুটা রেজাল্ট নেমেছে।’
এদিকে কলেজ পরিদর্শক শেখ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এটাকে আমরা ফলাফল বিপর্যয় বলব না। আমাদের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয় পরীক্ষার মাধ্যমে। শিক্ষার্থীরা সেশন করার পরে যে পরীক্ষা দিয়েছে, শিক্ষকরা যে মূল্যায়ন করেছেন, সেই মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের যে রেজাল্ট এসেছে, এটা শিক্ষার্থীদের কর্মের ফল। গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সেন্টারে ক্যামেরা লাগানো হয়েছে এবং শিক্ষকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা যে যতটুকু পড়াশোনা করেছে, তার পড়াশোনার ভিত্তিতে খাতায় লিখেছে।’
উল্লেখ্য, এ বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডে মোট ৭১ হাজার ৮৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৩৬ হাজার ৫৯৭ জন। পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২০৪ জন। অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ হাজার ৭৬০ জন, যাদের মধ্যে পাস করেছে ৮ হাজার ৬৫১ জন।
