শিরোনাম
সিলেটসহ চার বিভাগে শৈত্যপ্রবাহের আভাস নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মাউন্ট এডোরার মাতৃসেবা ইউনিটে ভর্তি বন্ধের নির্দেশ শিক্ষকদের উপস্থিতি মনিটরিংয়ে নতুন নীতিমালা হচ্ছে: হবিগঞ্জে প্রতিমন্ত্রী হাজ্জাজ সিলেটে ভাতিজাকে ‘পাগল’ বলায় চাচাকে খু/ন আজ থেকে টানা ৪ দিন সিলেটে কম থাকবে গ্যাসের চাপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধে জেল হত্যা দিবসের প্রদর্শনী স্থগিত সিলেটে মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ননীছড়া দখল-দূষণমুক্ত করার দাবি সুবিপ্রবির শিক্ষার্থীরাই একদিন দেশের নেতৃত্ব দেবে: উপাচার্য বিমানের দাম্মাম রুটে ফ্লাইট শুরু ৭ নভেম্বর সিলেটে গোপনে তৈরি হচ্ছিল নিষিদ্ধ ‘যৌন উদ্দীপক’ পণ্য, ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

https://www.emjanews.com/

20325

international

প্রকাশিত

০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:৪০

আন্তর্জাতিক

আসামে ৭৫০ বাঙালি মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ, গৃহহীন ৪ হাজার মানুষ

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:৪০

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে আবারও বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রাজ্য সরকার। ধুবড়ি জেলার আলমগঞ্জে সরকারি জমি থেকে প্রায় ৭৫০টি বাঙালি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে একদিনেই চার হাজারের বেশি মানুষ বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

গত রোববার (১ নভেম্বর) ধুবড়ি জেলার ৯ নম্বর ব্লকের প্রায় ৬৫০ বিঘা সরকারি জমিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা না থাকায় উচ্ছেদ হওয়া অনেক পরিবার আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, সড়কের পাশে অস্থায়ী ঘর কিংবা নদীর চরে আশ্রয় নিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিতে অভিযানে ব্যবহার করা হয় প্রায় ৬০টি বুলডোজার। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন আসামের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা পুলিশের মহাপরিদর্শক অখিলেশ কুমার সিং এবং ধুবড়ির জেলা কমিশনার দিবাকর নাথ।

জেলা কমিশনার জানান, ওই এলাকায় মোট ৮০০ বিঘা জমি খালি করার জন্য উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় বাকি ১৫০ বিঘা জমিতে আপাতত অভিযান চালানো হয়নি। উচ্ছেদ করা জমি শিল্প বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সেখানে পরিকল্পিত শিল্পপার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রশাসনের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সময়ে সরকারি জমি দখল করে সেখানে বসতি গড়ে তুলেছিলেন। তাঁদের অনেকের অন্যত্র জমি ও বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এ বক্তব্য মানতে নারাজ উচ্ছেদ হওয়া অনেক পরিবার। তাঁদের দাবি, কয়েক দশক ধরে তাঁরা ওই এলাকায় বসবাস করছেন। জীবিকা, স্মৃতি ও পারিবারিক শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই বসতভিটা।

৮০ বছর বয়সী এক বাসিন্দা জানান, ১৯৬২ সালে ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙন ও বন্যায় তাঁদের আদি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর গোয়ালপাড়া থেকে এসে তাঁরা আলমগঞ্জে আশ্রয় নেন। তাঁর দাবি, শুধু তাঁর পরিবার নয়, এলাকার আরও অনেকে ১৯৭২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তৌজি ব্যবস্থার অধীনে নিয়মিত জমির রাজস্ব পরিশোধ করেছেন। দীর্ঘদিন বসবাসের পর হঠাৎ উচ্ছেদের মুখে পড়ে তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মসজিদ, উপাসনালয় ও কবরস্থানসংলগ্ন এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। কেউ কেউ পূর্বপুরুষের কবর ও দরগাহের সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করেন।

এ সময় একটি দরগাহ ভাঙার উদ্যোগ নেওয়ার মুখে একটি বুলডোজার হঠাৎ বিকল হয়ে যায়। এর চালক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অভিযোগ, অভিযানের আগে বা পরে তাঁদের পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আসামে কয়েক মাস ধরে সরকারি জমি থেকে ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব অভিযানের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে বাঙালি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলো। এ নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।