নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘তেল ছাড়া পরোটা’
তোষামোদ বনাম নীতিবোধের সংঘাত
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৫ ১১:৫৪
ছবি: সংগৃহিত।
নৈতিকতা ও তোষামোদের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ধারাবাহিক নাটক ‘তেল ছাড়া পরোটা’। সমাজের গভীরে প্রোথিত এক নির্মম বাস্তবতাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ আর হাস্যরসের মোড়কে তুলে ধরেছে নাটকটি। কচি খন্দকারের রচনা ও পরিচালনায় নাটকটি অচিরেই প্রচারে আসছে।
কাহিনির কেন্দ্রে দুই বিপরীত পরিবার
গল্প আবর্তিত হয়েছে দুটি পরিবারের চারপাশে। একদিকে আছে তেল ব্যবসায় জড়িত এক প্রভাবশালী পরিবার-‘তিলের খাজা অয়েল মিল কোম্পানি লিমিটেড’। যারা এক সময় তিলের খাজা বিক্রি করত, এখন তারা তোষামোদের মই বেয়ে উঠে এসেছে তেল থেকে পেট্রল পর্যন্ত বিস্তৃত ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে। তাদের বিশ্বাস-তেল ছাড়া জীবনের চাকা চলে না।
অন্যদিকে রয়েছে এক নীতিনিষ্ঠ পরিবার, যারা আত্মমর্যাদা ও আদর্শ নিয়ে জীবনযাপন করে। তারা তোষামোদের পথ বেছে নেয়নি, বরং সংগ্রাম আর সৎ পথে বিশ্বাস করে। এই দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই সৃষ্টি হয় নাটকীয় টানাপড়েন।
ব্যঙ্গ-রসাত্মক ভঙ্গিতে সমাজের প্রতিচ্ছবি
নাট্যকার কচি খন্দকার জানান, নাটকটি মূলত সমাজের সেই সব মেধাবী মানুষের কথা বলে, যারা তোষামোদ না জানার কারণে বঞ্চিত হন। তিনি বলেন, আজকের সমাজে অনেক অযোগ্য মানুষ শুধু তেল দিয়ে বড় হতে পারে। এই অসম বাস্তবতাই আমাকে তাড়িত করেছে এই গল্প লেখায়।
তিনি আরও বলেন,তোষামোদ শুধু অন্যের ক্ষতি নয়, এটা নিজেরও আত্মবিক্রয়। আমরা এই নাটকে দেখাতে চেয়েছি, ন্যায়ের পথে থাকা মানুষরাই আসল সমাজের ভিত।
নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কচি খন্দকার নিজে, মারজুক রাসেল, রোবেনা রেজা জুঁই, সালহা খানম নাদিয়া, চাষী আলম, মুসাফির সৈয়দ বাচ্চু, আবদুল্লাহ রানা, সুজাত শিমুলসহ আরও অনেকে।
‘তেল ছাড়া পরোটা’ শুধু হাসাবে না, দর্শককে একবার হলেও ভাবাবে-উন্নতির জন্য কি সত্যিই দরকার তেল, না কি আদর্শ?
