আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত মিনা, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ ১৬:১০
চলতি বছর পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে স্থানীয় সময় আজ সোমবার, ৮ জিলহজ। গতকাল রোববার রাত থেকে আল্লাহর মেহমান হজযাত্রীরা পবিত্র মক্কা নগর থেকে মিনায় যেতে শুরু করেছেন।
এর আগে গতকাল রোববার সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ সোমবার হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে। হাজিদের তাঁবুনগরী হিসেবে পরিচিত মিনায় নিয়ে যেতে মাঠপর্যায়ের এবং সব ধরনের কার্যক্রমের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ পালনের উদ্দেশ্যে আজ সোমবার ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ (তারবিয়ার দিন) পালনের জন্য হজযাত্রীরা মক্কার নিজ নিজ বাসস্থান থেকে মিনায় যেতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ বছর পবিত্র হজ পালনের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী এসেছেন। তাঁদের সঙ্গে সৌদি আরবের আরও কয়েক লাখ হজযাত্রী যোগ দেবেন।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে হজযাত্রীরা তালবিয়া পাঠ করতে করতে ও আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করতে করতে আজ ভোর থেকে তাঁবুর নগরী মিনার দিকে রওনা হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌদি হজ মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের নিজস্ব ক্যাম্পে যাতায়াতব্যবস্থা সাজাতে এবং পবিত্র স্থানগুলোতে দেওয়া সেবার মান তদারক করতে সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করেছে। মন্ত্রণালয়ের এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে হজযাত্রীদের থাকার জায়গা ও আতিথেয়তা কেন্দ্র থেকে মিনায় যাওয়ার বিষয়টি দেখভাল করা; তাঁবুতে তাঁদের সহজ প্রবেশ নিশ্চিত করা; নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক সেবা দেওয়া এবং ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী হজযাত্রীদের নির্ধারিত
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে মন্ত্রণালয় মিনার ভেতরে হজযাত্রীদের থাকা, খাওয়া ও পরিবহনসেবার সার্বিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে যেকোনো সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য মাঠপর্যায়ের নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এসব প্রচেষ্টা পবিত্র স্থানগুলোতে হজযাত্রীদের অবস্থানের শুরুর দিনগুলোতে সেবার মান বৃদ্ধি করতে সাহায্য করছে।
জিলকদ মাসের শুরু থেকে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রে ৮৩ হাজারের বেশি পরিদর্শন ও মাঠপর্যায়ের সফর সম্পন্ন করেছে। হাজিদের বাসস্থান, আতিথেয়তা কেন্দ্র, তাঁবু এবং সব ধরনের সেবাকেন্দ্র এই পরিদর্শনের আওতাভুক্ত থাকছে। এতে তাদের কাজের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়, নির্ধারিত নিয়মগুলো মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা যায় এবং যেকোনো সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করে হজযাত্রীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতার মান উন্নত করা যায়।
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ৮ জিলহজ হাজিরা মিনায় অবস্থান করে ফজর থেকে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। মিনায় রাতযাপনের পর ৯ জিলহজ মঙ্গলবার তারা রওনা হবেন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে— যেখানে অবস্থান করাকেই হজের মূল রুকন হিসেবে গণ্য করা হয়।
এ বছর আরাফাতের ময়দানে হজের খুতবা প্রদান করবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করবেন।
সূর্যাস্তের পর হাজিরা রওনা হবেন মুজদালিফার উদ্দেশে। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায়ের পর খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবেন তারা। পরদিন ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগেই মিনায় ফিরে বড় জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার মধ্য দিয়ে হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।
১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন হজযাত্রীরা। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগেই তারা মিনা ত্যাগ করবেন।
