ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাস ও ট্রাকচালক হিসেবে কাজ করার অভিযোগে ৩০ ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। ‘অপারেশন চেকমেট’ নামে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) এক বিবৃতিতে জানায়, গত ১১ থেকে ১৫ মে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ইউমা সেক্টরে পরিচালিত অভিযানে অবৈধভাবে অবস্থানকারী মোট ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৬ জন ভারী পণ্যবাহী ট্রাকচালক ছিলেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ৩৬ ট্রাকচালকের মধ্যে ৩০ জন ভারতীয় নাগরিক। বাকি ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন মেক্সিকো, এল সালভাদর ও রাশিয়ার নাগরিক।
তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের অনেকের কাছেই ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ও ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে ইস্যুকৃত বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল। তবে কয়েকজনের কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায়নি।
সিবিপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অধিকাংশের কাছে কর্মসংস্থান অনুমোদনপত্র (ওয়ার্ক অথরাইজেশন) ছিল। তবে সেগুলো সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় ইস্যু করা হয়েছিল এবং ইতোমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ফলে তারা বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি হারিয়েছেন।
ফেডারেল আইন অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সবাইকে বহিষ্কার (ডিপোর্ট) করা হবে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘অপারেশন চেকমেট’-এর মূল উদ্দেশ্য হলো অভিবাসন আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক যানবাহন পরিচালনাকারী অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত টহল বাহিনীর ইউমা সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডাস্টিন কডল বলেন, “অপারেশন চেকমেট আমাদের সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন, যার মাধ্যমে আমরা অবৈধভাবে অবস্থানকারী চালকদের কারণে সৃষ্ট জননিরাপত্তার ঝুঁকি কমাতে কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, ফেডারেল এজেন্টরা নিয়মিত টহল পরিচালনা করছেন, যাতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী চালকদের শনাক্ত করে সড়কে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ সম্প্রতি একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এতে অযোগ্য বিদেশি নাগরিকদের বাণিজ্যিক ট্রাক ও বাস চালানোর লাইসেন্স পাওয়া ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কয়েকজন ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
