ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব পাস মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ ১১:২৮
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব পাস করেছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২১৫-২০৮ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়ে এ উদ্যোগকে সমর্থন জানান।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতের পর এটি ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিধি পরিষদের চতুর্থ প্রচেষ্টা। সমালোচকদের দাবি, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবটি কার্যকর হতে হলে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। এমনকি সিনেটে পাস হলেও এটি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এর আগে মে মাসে সিনেটে অনুরূপ একটি প্রস্তাব অগ্রসর হলেও তা এখনো পূর্ণাঙ্গ ভোটাভুটির জন্য উপস্থাপিত হয়নি।
সাম্প্রতিক এ ভোটকে রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজনের নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক দিন আগেই কংগ্রেসের রক্ষণশীল সদস্যদের বিরোধিতার মুখে ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিক মিত্রদের জন্য প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।
ভোটাভুটিতে রিপাবলিকান সদস্য থমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট এবং ওয়ারেন ডেভিডসন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একযোগে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। এছাড়া মেইনের ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড গোল্ডেন, যিনি অতীতে অনুরূপ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন, এবার সমর্থন জানান।
মিশিগানের রিপাবলিকান সদস্য টম ব্যারেট বলেন, যুদ্ধ ঘোষণা করার সাংবিধানিক ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের। তাই এ বিষয়ে কংগ্রেসের ভূমিকা রক্ষা করা প্রয়োজন। ট্রাম্পের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি নিজের বিবেকের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোট দিয়েছেন।
প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এ ভোটকে ট্রাম্পের ‘অবৈধ ও ব্যয়বহুল’ ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিদলীয় বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি এ সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন করেছে।
মিকসের মতে, এ ভোট মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ানোর বিপক্ষে জনমতের প্রতিফলন এবং ক্রমেই আরও বেশি রিপাবলিকান সদস্য তাদের ভোটারদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়।
এরপর এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয়। একই মাসের ৮ তারিখে উভয় পক্ষ একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায়।
তবে যুদ্ধবিরতির পরও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছে এবং এর জবাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুয়েতে আঘাত হেনেছে।
ভোটাভুটির আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং চলতি সপ্তাহান্তেই একটি সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালিয়েছে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়াও এসেছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটানোর বিষয়ে দুই পক্ষ আগের তুলনায় অনেক কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, তার প্রশাসনের অধিকাংশ সদস্যই এমন একটি সমাধান চান, যাতে নতুন প্রাণহানি ছাড়াই দ্রুত যুদ্ধের ইতি টানা সম্ভব হয়।
