হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্য: মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এফআইআর
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ ২০:৩২
ছবি: মমতা বন্দোপাধ্যয়।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি সিং। অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ একাধিক অজামিনযোগ্য ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনমনে বিভ্রান্তি ও বিদ্বেষ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন এবং কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরির আশঙ্কা সৃষ্টি করেছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এ ধরনের বক্তব্য দুই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকায় বিষয়টির যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।
এদিকে অভিযোগ গ্রহণের পর পুলিশ কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ইঙ্গিত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভাণ্ডার, তথ্যভাণ্ডার। কিন্তু এতদিন আমি বলিনি। নাম বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে।’
মমতার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।
