১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ী ব্রাজিল দল (ছবি সংগৃহীত)
ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি বিশ্বজনীন এক আবেগ। আর বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই তো টানটান উত্তেজনা আর কোটি হৃদয়ের স্পন্দন। আমার ফুটবলীয় চেতনার একদম শুরুর দিন থেকেই যে দলটি এই হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে, সেটি হলো-ব্রাজিল।
খুব শৈশবে, যখন আমি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি, তখন পাঠ্যবইয়ের ‘ফুটবলের রাজা’ (পেলে) গল্পটি পড়েছিলাম। সেই থেকেই সেলেসাওদের প্রতি এক অদৃশ্য ও জাদুকরী আকর্ষণের শুরু। তবে পুরোপুরি ফুটবল বুঝতে শিখে খেলা দেখার রোমাঞ্চ শুরু ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে। রোমারিও-বেবেতোর সেই বিখ্যাত গোল উদযাপনের জাদু, মাঠজুড়ে সাম্বা নৃত্য, নান্দনিক ফুটবল, নিখুঁত পাসের ফুলঝুরি আর নান্দনিক রণকৌশল দলটির প্রতি ভালোবাসাকে এক চিরন্তন রূপ দেয়।
ব্রাজিল কেবল একটি দল নয়, এটি ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র ধারাবাহিকতার প্রতীক এবং বিশ্বমঞ্চে অসংখ্য ফুটবল নক্ষত্রের জন্মদাত্রী এক পুণ্যভূমি।
ফুটবল ইতিহাসের পাতা ওল্টালেই ভেসে ওঠে সেইসব জাদুকরদের মুখ। রবার্তো কার্লোসের সেই বুলেট গতির অবিশ্বাস্য ফ্রি-কিক, রিভালদোর পায়ের জাদু, ‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদোর প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ করা অপ্রতিরোধ্য গতি, কিংবা রোনালদিনহোর পায়ের জাদুকরী কারুকার্য আর বিশ্বজয়ী সেই অমায়িক হাসি; যা কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় হরণ করেছিল। এরপর কাকার শৈল্পিক ফুটবল আর হাল আমলে নেইমারের বিস্ময়কর আগমন ও নান্দনিক অবদান আমাকে বারবার বিমোহিত করেছে।
একবিংশ শতাব্দীর প্রথম বিশ্বকাপ বিজয়ী (২০০২) দলটি এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ মঞ্চে নামছে তাদের বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা মিশন’ সফল করতে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কাসেমিরো,দানিলো,ফাবিনহো,সান্তোয,এন্ডারসন,রাফিনহা,সান্তো,গাব্রিয়েল, থিয়োগো থেকে শুরু করে একঝাঁক তরুণ ও অভিজ্ঞতার দুর্দান্ত সংমিশ্রণ ঘটেছে এবারের দলে, যারা ইউরোপের বড় বড় ক্লাবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে এসেছেন। আর ডাগআউটে যখন কুশলী ডিরেক্টরের ভূমিকায় আছেন কার্লো আনচেলত্তির মতো মাস্টারমাইন্ড, তখন প্রত্যাশার পারদ আকাশচুম্বী হওয়াই স্বাভাবিক। তাঁর হাত ধরেই ২০২৬ বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি আবারো উঁচিয়ে ধরবে হলুদ-সবুজ জার্সিধারীরা-সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বিশ্বজুড়ে কোটি চোখ।
এটি কেবল অন্ধ আবেগ নয়; ঐতিহ্য, সৌন্দর্য, ইতিহাস, নিখুঁত নৈপুণ্য আর ধারাবাহিকতার এক অপূর্ব মহাকাব্যিক সমন্বয় পেয়েছি এই দলটির মাঝে। রূপালী পর্দার মতো সুন্দর ফুটবল উপহার দেওয়া প্রিয় দল ব্রাজিলের জন্য রইল অন্তহীন ভালোবাসা ও শুভকামনা। জাদুকরদের পায়ে এবার ধরা দিক ষষ্ঠ মুকুট!
