https://www.emjanews.com/

16147

international

প্রকাশিত

০৬ জুন ২০২৬ ২০:১৯

আন্তর্জাতিক

বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ ২০:১৯

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ না নেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সকালে বিশ্ববাজারে তেলের প্রধান বেঞ্চমার্কগুলোতে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

তেল ও জ্বালানি বিষয়ক ওয়েবসাইট অয়েলপ্রাইজ ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ৯৪ ডলার বা ২ দশমিক ০৪ শতাংশ কমে ৯৩ দশমিক ০৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৯০ দশমিক ৫৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অন্যান্য জ্বালানি তেলের মধ্যেও দরপতন দেখা গেছে। মারবান ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ০২ শতাংশ কমে ৯০ দশমিক ৬৮ ডলার এবং ওয়েস্টার্ন কানাডিয়ান সিলেক্টের দাম ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ কমে ৮০ দশমিক ৬৯ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাস ও হিটিং অয়েলের দামও কমেছে। তবে গ্যাসোলিনের দাম সামান্য ০ দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুক্রবারের সামরিক ঘটনাপ্রবাহ বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে না যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমেছে। এরই প্রভাবে তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে এবং দাম নিম্নমুখী হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার ভারত মহাসাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ এবং আত্মরক্ষার্থে ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব ড্রোন আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য সরাসরি হুমকি ছিল।

এর জবাবে ইরানের মূল ভূখণ্ড ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ‘ঘোস্ট ফ্লিট’-এর অংশ বলে পরিচিত ‘এমটি ডভিনা’ নামের একটি সুপারট্যাংকার জব্দ করে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, জাহাজটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ইরানি তেল চীনে পাচারে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

তবে এসব অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যাতায়াত করে। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আলোচনা চললেও হরমুজকে ঘিরে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে শনিবারের দরপতন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাজার আপাতত বড় ধরনের সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা করছে না এবং ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে বলে মনে করছেন।