ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোরপূর্বক গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই কিশোরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে গত ১০ জুন (বুধবার) উপজেলার সদর ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর পরিবার কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তারা আশুগঞ্জের কলাবাগান এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই কিশোরীকে তার মা স্থানীয় একটি দোকান থেকে রুটি কিনে আনতে পাঠান। দোকানে যাওয়ার পথে স্থানীয় যুবক জাকারিয়া, অনিক ও ইমরান নামের তিন বন্ধু মিলে কিশোরীটির গতি রোধ করে। পরে তাকে জোরপূর্বক ফুসলিয়ে ও ভয় দেখিয়ে পাশের একটি ভবনের পাঁচতলার নিয়ে যায়। সেখানে কিশোরীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ওই তিন যুবক তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। নির্যাতনের পর বিষয়টি কাউকে জানালে কিশোরীর বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। ভয়ে ও আতঙ্কে কিশোরী প্রথম দুই দিন বিষয়টি গোপন রাখে। তবে ঘটনার দুই দিন পর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে এবং প্রচণ্ড পেট ব্যথাসহ রক্তক্ষরণ শুরু হলে, সে তার মাকে বিস্তারিত খুলে বলে। এরপর শনিবারে পরিবারের লোকজন কিশোরীকে দ্রুত উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালি জানান, ‘ভুক্তভোগী কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। তাকে আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। রিপোর্ট হাতে পেলেই ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.কে.এম সফিকুল আলম চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে অভিযুক্ত তিন যুবককে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
