পাঠ্যবইয়ে থাকছে না হাদির বীরত্বগাঁথা
নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা নিয়ে নতুন পাঠ; ২০২৮ সালে হাদিকে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ ১৯:০৩
ছবি: শরীফ ওসমান বিন হাদি।
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির ‘বীরত্বগাঁথা’ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সর্বশেষ উচ্চ পর্যায়ের সভায় এ বিষয়ে কোনো এজেন্ডা না থাকায় আগামী বছরের পাঠ্যবইয়ে বিষয়টি যুক্ত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই সম্পাদনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে নতুন করে শরীফ ওসমান বিন হাদির বিষয়টি যুক্ত করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা ও বিষয়ভিত্তিক কমিটি।
এদিকে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক দুটি প্রবন্ধের আলোকে নতুন পাঠ সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ‘আমাদের স্মরণীয় নেতা’ অধ্যায়ে বিদ্যমান চার নেতার পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
এনসিটিবির প্রাথমিক শিক্ষাক্রম উইংয়ের সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইকবাল হায়দার জানিয়েছেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাথমিক স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৩৬টি পাঠ্যবইয়ের সম্পাদনার কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে শরীফ ওসমান বিন হাদির বিষয়টি যুক্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, ২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। তখন কোন বিষয় পাঠ্যবইয়ে যুক্ত বা বাদ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা কমিটি ও বিষয়ভিত্তিক কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, ২০২৮ সালের পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ অধ্যায়ে তিতুমীর, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, নূর হোসেন, আবু সাঈদ ও মুগ্ধকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, একই ধরনের বিন্যাসে শরীফ ওসমান বিন হাদিকেও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
