কুলাউড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার তালিকায় প্রবাসী ও সচ্ছলদের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় ক্ষোভ। প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় তদন্তের দাবি।
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ ১৯:৩৩
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সহায়তা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত অনেক কৃষক এই তালিকা থেকে বাদ পড়লেও সচ্ছল ব্যক্তি, প্রবাসী পরিবার এমনকি অকৃষকদের নামও তালিকায় স্থান পেয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবে এই তালিকা প্রণয়নে নয়ছয় করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বঞ্চিত কৃষকরা।
সরেজমিনে তথ্য নিয়ে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ১৫ কেজি করে চাল ও নগদ ৩ হাজার করে টাকা বরাদ্দ করা হয়। তবে বরমচাল ও ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে এই সহায়তা বিতরণের সময় নানা অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে মো. মতিন মিয়া নামের এক ব্যক্তি সহায়তা পেয়েছেন, যার তিন ছেলের একজন বিদেশে এবং একজন সরকারি চাকুরে।
এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী পরিবার, কানাডা প্রবাসী পরিবার এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও কৃষক না হয়েও সহায়তা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বরমচাল ইউনিয়নেও জমি না থাকা সত্ত্বেও অনেকে তালিকায় নাম লিখিয়েছেন এবং সুবিধা ভোগ করছেন।
অভিযোগের তীর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার দিকে। বঞ্চিত কৃষকদের অভিযোগ, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করে নেতাদের সুপারিশে তালিকা প্রস্তুত করেছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শুকু শুরু থেকেই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার কড়া নির্দেশনা দিলেও মাঠ পর্যায়ে তা চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আফতাব মিয়া অবশ্য তাড়াহুড়ো করে তালিকা প্রস্তুতের কারণে কিছু ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, বরাদ্দ কম হওয়ায় কিছু প্রকৃত কৃষক বাদ পড়েছেন। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার জানিয়েছেন, কেউ নিয়ম বহির্ভূতভাবে সুবিধা ভোগ করলে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে। সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শুকু হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকারি প্রণোদনা বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না এবং প্রকৃত কৃষকদের হক যারা ছিনিয়ে নিয়েছে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
