শিরোনাম
সৌদি আরবে পর্যটকদের জন্য ‘প্যাকেজ ভিসা’ প্রকল্প চালু শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের তদন্ত শেষ, প্রধান আসামি শেখ হাসিনা বাধ্যতামূলক অবসর: ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তার হিসাব-নিকাশ মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের জরুরি সতর্কবার্তা কক্সবাজারে পাহাড় ধসে মাদ্রাসা চাপা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ৮ জনের মৃত্যু সিলেট মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা কমিটি অনুমোদন সিলেট ওসমানীতে সংঘর্ষ: পুলিশের সাথে বৈঠকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হবিগঞ্জে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, বাস চালক নিহত সিলেট সীমান্তে আসা কোটি টাকার চালানটি কাদের? ২য় দফায় গণনা হবে শাহজালাল মাজারের দানের টাকা: সময় ও স্থান নির্ধারণ

https://www.emjanews.com/

16978

national

প্রকাশিত

০৮ জুলাই ২০২৬ ২০:০৫

জাতীয়

বাধ্যতামূলক অবসর: ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তার হিসাব-নিকাশ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ ২০:০৫

ছবি: সংগৃহীত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহুল আলোচিত ‘রাতের ভোট’ বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পরিচিত ৩৩ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি বিধান অনুযায়ী তাদের অবসরে পাঠানো হলেও, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন জেলায় এসপি ও মহানগর পুলিশের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন এবং পরবর্তী সময়ে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা ২০তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের। তাদের অনেকেই ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও মহানগরে দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সরকারের পক্ষে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি দমনে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে তাদের অনেকেই পদোন্নতি, গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন এবং দীর্ঘ সময় জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান।

সরকারি সিদ্ধান্তে বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ১৪ জন ডিআইজি, ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং একজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

সূত্র বলছে, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ২১ ও ২২ ব্যাচের আরও প্রায় ৩৫ কর্মকর্তার চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

জানা গেছে, এসব কর্মকর্তার নিয়োগ প্রক্রিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের আগের আমলে শুরু হলেও তারা চাকরিতে যোগ দেন ২০০১ সালের ৩১ মে বিএনপি সরকারের সময়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত হন।

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- সিলেটের মনিরুজ্জামান, সুনামগঞ্জের বরকত উল্লাহ খান, বরিশালের তৎকালীন এসপি মো. সাইফুল ইসলাম, নরসিংদীর মিরাজ উদ্দিন, ঢাকা জেলার শাহ মিজান শাফিউর রহমান, গুলশান বিভাগের তৎকালীন ডিসি মোস্তাক আহমেদ খান, চাঁদপুরের জিহাদুল কবির, যশোরের মঈনুল হক, নোয়াখালীর ইলয়াছ শরীফ, ফরিদপুরের জাকির হোসেন, ময়মনসিংহের শাহ আবিদ হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আনোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইলের সঞ্জয় কুমার, গোপালগঞ্জের সাইদুর রহমান খান, গাজীপুরের শামসুন্নাহার, মাগুরার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান এবং কিশোরগঞ্জের মাশরুকুর রহমান খালেদ।

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সাবেক গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কর্মজীবনে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি সমালোচিত হন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে অভিযোগ ওঠে, ২০২২ সালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার পদে পদায়নের জন্য তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলে বিপুল অঙ্কের ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২০১৩ সালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার থাকাকালে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন খানের বিরুদ্ধেও কর্মজীবনে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক গ্রেফতার ও দমন-পীড়নে তিনি ভূমিকা রাখেন। এছাড়া থানার ওসি, এসআই ও এএসআই পদায়নে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে, সাবেক এসপি শ্যামল কুমার নাথ কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকালে তার অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের ইয়াবা চোরাচালানে সম্পৃক্ততা এবং তদারকির ব্যর্থতা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন। বিষয়টি পরে ‘কক্সবাজার ইয়াবা বিতর্ক’ হিসেবে ব্যাপক আলোচিত হয়।

এদিকে জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব কর্মকর্তার অনেকেই প্রশাসনিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম ও ডিআইজি মো. সাইফুল ইসলাম ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণেও তাদের অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

অবসরে পাঠানো একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশ সদস্যরা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। তারা ব্যক্তিগতভাবে কোনো মন্তব্য করতে চান না।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘অবসরের বিষয়টি সম্পূর্ণ সরকারের সিদ্ধান্তে হয়েছে।’