সাংবাদিক তুরাব হত্যার সাথে জড়িত সকলের বিচার হবে: উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির
সিলেট প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা-পদক বিতরণ
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ ২২:১২
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ এটিএম তুরাব আমাদের সকলের প্রেরণার উৎস। এ হত্যার সাথে জড়িত সকলকে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তুরাব হত্যার বিষয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধীদলকে সোচ্চার হবার পরামর্শ দেন তিনি।
পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত সাংবাদিক এটিএম তুরাবের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী ও এটিএম তুরাব পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শনিবার (১৮ জুলােই) বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূর।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন-সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান লোদী কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)
সাঈদা পারভীন।
অনুভূতি ব্যক্ত করেন এটিএম তুরাব পদকের জন্য মনোনীত দৈনিক নয়া দিগন্তের ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদার।
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনে দেড় হাজার মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমরা এ জায়গায় এসেছি। শহীদ তুরাবের রক্ত সিলেটের মাটিতে ঝরেছে।
তুরাব হত্যার বিচার বিলম্বিত হবার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, এ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তিনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলবেন। যাতে তুরাবসহ এ ধরনের জঘন্য হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতরা দ্রুত গ্রেফতার হয় এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তি হয়। সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে তুরাব শহীদ হয়েছেন। গত ১৫ বছর অপতথ্যের মাধ্যমে দেশকে তথ্য সন্ত্রাসে পরিণত করা হয়েছিল। বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দাফন হয়ে গেছে। বিগত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে মিডিয়া স্বাধীনভাবে তার
কার্যক্রম চালাচ্ছে।
অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কলম ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভেদাভেদ থাকতে পারে। কিন্তু দেশের ব্যাপারে আমাদের সকলকে এক থাকতে হবে দেশপ্রেমের চেতনা নিয়ে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।
এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, তুরাবের লাশ ছিনিয়ে নেয়ার অপচেষ্টার স্বাক্ষী আমরা। মামলায় আমাদের লোকজনকেও আসামি করা হয়। এটা হচ্ছে নির্মম বাস্তবতা। জুলাই বিপ্লবে তুরাব ও গোলাপগঞ্জের ৭ জন নিরীহ মানুষকে হত্যার অগ্রগতি নিয়ে তিনি সম্প্রতি চিফ প্রসিকিউটরের সাথে আলোচনা করেছেন।
এ হত্যাকান্ডের বিলম্বে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা প্রতিশোধপরায়ণ হতে চাই না। এ হত্যার বিচারের মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে-এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী (কয়েস লোদী) তুরাব হত্যার বিচার কার্যক্রম তুরাব হত্যাকান্ডের তদন্ত প্রক্রিয়া সাগর রুনি হত্যাকান্ডের মতো হয়ে যায় কিনা-এই আশংকা ব্যক্ত করেন। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত পুলিশ অফিসাররা গ্রেফতার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিবাদ নয়, ফাঁসির দাবি নিয়ে আমরা
দাঁড়িয়েছি’।
মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম বলেন, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তুরাব জীবন দিয়েছেন। এ মামলার তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেছেন, এ সরকার কোন অন্যায়কে ছাড় দেবে না।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন বলেন, রাজনীতির কারণে কারো রক্ত ঝরুক- এটা আমরা চাই না।
বক্তব্য দেন-ক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী ও ইকরামুল কবির, সিনিয়রসহ-সভাপতি এম এ হান্নান, সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বদর, সাবেক কোষাধ্যক্ষ কবীর আহমদ সোহেল, ক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন।
শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্লাব সদস্য কবির আহমদ। পরে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আব্দুল কাদের তাপাদারের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ অন্য অতিথিবৃন্দ।
ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক শেখ আশরাফুল আলম নাসির, পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মুহিবুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য আমজাদ হোসাইন ও আনাস হাবিব কলিন্স, ক্লাব সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-জিয়াউস-শামস শাহীন, হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সেলিম আউয়াল, মো. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী (এহিয়া), সোয়েব বাসিত, কবির আহমদ, আশকার ইবনে আমিন লস্কর রাব্বী, জাবেদ আহমদ, আহবাব মোস্তফা খান, মো. বদরুর রহমান বাবর, শুয়াইবুল ইসলাম, নৌসাদ আহমদ চৌধুরী, মুনশী ইকবাল, শেখ আব্দুল মজিদ, মো. দুলাল হোসেন, মো. মারুফ হাসান, লুৎফুর রহমান তোফায়েল, এম রহমান ফারুক, শফিক আহমদ শফি, মামুন পারভেজ, লবীব আহমদ, মো. জুনেদ আহমদ, আব্দুল হান্নান, লোকমান আহমদ, সহযোগী সদস্য আকাশ চৌধুরী প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মুকতাবিস উন নূর বলেন, একটি পক্ষ এই হত্যা মামলার আসামীদের রক্ষার জন্য শুরুতেই তৎপর ছিল। তুরাবের পরিবার যেন ইনসাফ পায়-তিনি সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
