https://www.emjanews.com/

17193

surplus

প্রকাশিত

১৯ জুলাই ২০২৬ ১৫:৩৪

আপডেট

১৯ জুলাই ২০২৬ ১৬:৪৩

অন্যান্য

মালয়েশিয়ায় আটককেন্দ্রে ১৪০ অভিবাসীর মৃ/ত্যু: তদন্তের দাবি

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১৫:৩৪

মালয়েশিয়ায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ওপর কঠোর অভিযানের পর থেকে দেশটির অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোতে (ডিটেনশন সেন্টার) মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের পর এ পর্যন্ত অন্তত ১৪০ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোর্টিফাই রাইটস’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি আটককেন্দ্রগুলোর এই অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশের জন্য মালয়েশিয়া সরকারের কঠোর সমালোচনা করে অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

ফোর্টিফাই রাইটস মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টে দেওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানায়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৪৬৫ জন আটক অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯৩ জন পুরুষ, ৬০ জন নারী এবং ১২ জন শিশু রয়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আটককেন্দ্রগুলোতে ২২ হাজার ৪৫ জন বন্দি রয়েছেন, যা ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। অতিরিক্ত ভিড়ের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকটে সেপসিস, মেনিনজাইটিস ও লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানানো হয়েছে।

সাবেক আটক ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে চিকিৎসার চরম অবহেলা চিত্র পাওয়া গেছে। 'হোসেন' ছদ্মনামের এক বাংলাদেশি সাবেক বন্দি জানান, অসুস্থতার কথা জানালে উল্টো মারধরের শিকার হতে হতো। গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যুপথযাত্রী না হওয়া পর্যন্ত কাউকে হাসপাতালে নেওয়া হতো না। অন্যান্য বন্দিদের অভিযোগ, জ্বর বা দাঁত ব্যথার মতো সমস্যা নিয়ে গেলে শুধু প্যারাসিটামল দিয়ে বিদায় করা হতো যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং জাতিসংঘের ‘নেলসন ম্যান্ডেলা রুলস’-এর পরিপন্থী।

ফোর্টিফাই রাইটসের জ্যেষ্ঠ পরিচালক পিটার বাউকার্ট বলেন, অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোর ভয়াবহ পরিবেশ এই অপ্রয়োজনীয় মৃত্যুগুলোর জন্য দায়ী। হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের মানবিক মর্যাদা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা মালয়েশিয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা। অবিলম্বে এই মৃত্যুর মিছিল থামাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোর জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।