ছবি: লিওনেল মেসি।
লিওনেল মেসি- একটি নাম যা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আলবিসেলেস্তেদের জন্য যিনি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন, সেই ফুটবল জাদুকরকে বিদায় বেলায় তার প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে কি কার্পণ্য করল আর্জেন্টিনা?
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফুটবল মহাযজ্ঞের শেষ রজনীতে যখন একরাশ বিষাদ নিয়ে মাঠ ছাড়ছিলেন মেসি, তখন ফুটবল ভক্তদের মনে এমন প্রশ্নই উঁকি দিচ্ছে। টুর্নামেন্টের রানার্সআপ হয়েও দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই মহাতারকাকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়নি, যা অনেক ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে এক ধরনের ‘প্রতারণা’ বা অবমূল্যায়ন।
ম্যাচ শেষে গ্যালারি থেকে ভেসে আসা ভক্তদের জয়ধ্বনির দিকে মেসি যখন অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল তিনি হয়তো বিশ্বমঞ্চে তার শেষ মুহূর্তগুলোই অনুভব করছেন।
এদিকে দলের প্রাণভোমরার এমন আবেগঘন পরিস্থিতি ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিমর্ষ হয়ে পড়েন কোচ লিওনেল স্কালোনি। সংবাদ সম্মেলনে মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে কোনো উত্তর না দিয়ে বেরিয়ে যান। ১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনার জার্সিতে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, গত দুই দশকে অসংখ্য চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মেসি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।
৩৯ বছর বয়সেও পায়ের জাদুতে বিশ্বকে বিমোহিত করে রাখা মেসির পক্ষে ২O৩০ সালের বিশ্বকাপে মাঠে নামা প্রায় অসম্ভব। শারীরিক সক্ষমতা আর বয়সের বিচার বলছে, শিরোপাহীন এই ফাইনালই হতে পারে বিশ্বমঞ্চে তার শেষ উপস্থিতি। আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক কৌশলের ঘাটতি আর ভাগ্যের নির্মম পরিনতিতে ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচটি আক্ষেপেই শেষ হলো এই মহানায়কের। ফুটবলের এই বরপুত্রের এমন বিদায়ে মাঠের লড়াই হারলেও আবেগ আর কিংবদন্তির বিচারে তিনি চিরকাল থাকবেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
