ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি তিনটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, নদী দুটির পানি সমতলে বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দুই জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদী সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। সারীগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে, যা আগামী দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যে অতি ভারী বর্ষণ এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের উইলিয়ামনগরে ৩৭১ মি.মি., চেরাপুঞ্জিতে ২৭৯ মি.মি. এবং আসামের গুয়াহাটিতে ১৩৮ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উজানের এই বিপুল পরিমাণ পানি সুরমা, কুশিয়ারা ও সারীগোয়াইন নদী দিয়ে নেমে আসায় নিম্নাঞ্চলের প্লাবিত এলাকায় জনভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেটের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে যেসব এলাকায় বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি বিদ্যমান, সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
