https://www.emjanews.com/

17228

international

প্রকাশিত

২০ জুলাই ২০২৬ ২০:০১

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন অ্যান্ডি বার্নহাম

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ ২০:০১

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অ্যান্ডি বার্নহাম।

সোমবার (২০ জুলাই) বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের সাথে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন লেবার পার্টির এই নেতা। মাত্র দুই বছর আগে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি নির্বাচনে জয়ী হলেও দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে পরিবর্তনের ফলে স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হলেন বার্নহাম। এর মাধ্যমে গত এক দশকের মধ্যে ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গদিতে বসলেন তিনি।

১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বসতি গাড়ার পর নিজের প্রথম ভাষণে বার্নহাম স্বীকার করেছেন, ঘন ঘন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রিটেনের ভাবমূর্তি কিছুটা ম্লান হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিশ্বমঞ্চে ব্রিটেনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে জনসাধারণের কল্যাণে পুনর্গঠন করাই হবে তার প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার। যুক্তরাজ্যের সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী ভোটাররা দলকে ম্যান্ডেট দেওয়ায়, কোনো নতুন জাতীয় নির্বাচন ছাড়াই দলের অভ্যন্তরে এই নেতৃত্ব পরিবর্তন সম্পন্ন হয়েছে।

ব্রিটেনের রাজনীতিতে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ হিসেবে খ্যাত গ্রেটার ম্যানচেস্টারের এই সাবেক মেয়র ও অভিজ্ঞ ক্যাবিনেট মন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই লন্ডনের কেন্দ্রীয় ক্ষমতা প্রান্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে সরব। তিনি অঙ্গীকার করেছেন, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। তবে তার এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ নয়। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ, যিনি ইতোমধ্যে তাকে ‘চরম উদারপন্থী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন; অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কট্টর ডানপন্থী ও বামপন্থী দলগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করা।

ব্রিটিশ ভোটাররা গত কয়েক বছরে একাধিক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ‘নতুন শুরুর’ আশ্বাস পেয়ে ক্লান্ত। এমতাবস্থায় অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো জনমানসে আস্থা ফিরিয়ে আনা। তিনি কেবল জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নই করবেন না, বরং গত কয়েক বছরের অস্থিরতা কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে টিকে থেকে সরকার পরিচালনা করবেন- এমনটাই এখন প্রত্যাশা ব্রিটেনবাসীর।