‘চির বিদায় পৃথিবী’ লিখে ফেসবুকে পোস্ট করার ১৯ ঘণ্টা পরই সড়কে মৃত্যু
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০৩
ছবি: সংগৃহীত
‘চির বিদায় পৃথিবী’-ফেসবুক স্টোরিতে মাত্র তিনটি শব্দ লিখেছিলেন ১৮ বছরের নিরব পোদ্দার। পোস্ট দেওয়ার প্রায় ১৯ ঘণ্টা পরই সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তাঁর জীবন। পরিবারের কাছে ফিরে আসার কথা ছিল, কিন্তু ফিরলেন নিথর হয়ে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্বনাওডোবা ইউনিয়নের চরখাগুটিয়া এলাকায় ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কে সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নিরব।
নিরব পূর্বনাওডোবা ইউনিয়নের চরখাগুটিয়া চৌকিদার কান্দি গ্রামের বাবুল পোদ্দারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রোববার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘চির বিদায় পৃথিবী’ লিখে একটি স্টোরি পোস্ট করেছিলেন নিরব। পরদিন দুপুরে বন্ধুর ইয়ামাহা এফজেড মোটরসাইকেল নিয়ে ১২ বছরের ইউসুফকে সঙ্গে করে কাজিরহাটের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। চরখাগুটিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান নিরব। তাঁর সঙ্গে থাকা ইউসুফ ছিটকে রাস্তার পাশের পানিতে পড়ে গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনায় সিএনজির দুই যাত্রী মিম (২০) ও মলিনাও আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক নিরবকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত ইউসুফকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মিম ও মলিনাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
নিরবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে তরুণটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন, তাঁর আকস্মিক মৃত্যু স্বজন ও পরিচিতদের কাছে যেন অবিশ্বাস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তানভীর আহমেদ বলেন, নিরবকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। ইউসুফ গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পদ্মাসেতু দক্ষিণ থানার ওসি মো. আব্দুস সালাম বলেন, দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। সিএনজি চালক দুর্ঘটনার পর পালিয়ে গেছেন। তাঁকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
