শিরোনাম
সীমান্তে অপরাধ মোকাবিলায় ডিজিটাল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটে টাওয়ার থেকে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত লা/শ উদ্ধার সিলেটে হাম পরিস্থিতির অবনতি: ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১৫৪, মৃ/ত্যু আরও ২ নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সিএনজির দৌরাত্ম্য, বাড়ছে দুর্ঘ.টনার ঝুঁকি সিলেটসহ দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে পল্লব, কারা/গারে প্রেরণ সিলেটে মৃ/ত্যুহীন দিনে হাম উপসর্গে ভর্তি ১৩৮ জন প্রবাসীদের বিমান ভাড়া নিয়ে সুখবর, কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার হবিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত সিলেটে টাকা ফেরত চাওয়ায় ভাইয়ের হাতে বোন খু/ন

https://www.emjanews.com/

18259

sylhet

প্রকাশিত

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:০৫

সিলেট

আজ রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:০৫

ছবি: সংগৃহীত

আজ ১ সেপ্টেম্বর, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ও বর্বরোচিত ‘রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস’। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী স্থানীয় স্বাধীনতাবিরোধীদের সহযোগিতায় প্রাচীন নৌবন্দর রানীগঞ্জ বাজারে চালায় ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ। এর ঠিক এক দিন আগে, ৩১ আগস্ট শ্রীরামসি গ্রামে সংঘটিত হয়েছিল আরেকটি গণহত্যা। সেই হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন রানীগঞ্জে ঘটে যায় আরেক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ।

ইতিহাসের সেই রক্তাক্ত দিনের ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় স্বাধীনতাবিরোধীরা ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের কথা বলে বাজারে মাইকিং করে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে রানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী, আশপাশের গ্রামের সাধারণ মানুষ, ক্রেতা-বিক্রেতা এবং নদীতে থাকা বড় বড় নৌকার মাঝিসহ প্রায় দুই শতাধিক মানুষ বাজারের একটি বড় দোকানে জড়ো হন। কিন্তু সেখানে জড়ো হওয়া মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাকিস্তানি সেনারা চারদিক থেকে দোকানটি ঘিরে ফেলে। পরে সবাইকে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় কুশিয়ারা নদীর তীরে। সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পেছন থেকে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।

গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে নদীর তীর। একের পর এক মানুষ লুটিয়ে পড়েন কুশিয়ারা নদীর বুকে। স্রোতের সঙ্গে ভেসে যায় অসংখ্য মরদেহ। মুহূর্তেই নদীর পানি রক্তে লাল হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই হত্যাযজ্ঞে দুই শতাধিক মানুষ শহীদ হন। তবে তাঁদের মধ্যে মাত্র ৩৪ জনের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের পরিচয় আজও অজানা। হত্যাকাণ্ডের পরও থামেনি হানাদার বাহিনীর তাণ্ডব। পুরো রানীগঞ্জ বাজারে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তে আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায় বাজারের দোকানপাট।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও রানীগঞ্জ গণহত্যার শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে এখনো কোনো সরকারি ‘স্মৃতি পরিষদ’ গঠিত হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ ও আক্ষেপ। প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি স্মরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘শহীদ গাজী ফাউন্ডেশন’ ২০০৩ সাল থেকে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে আসছে। এবারও সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, মুক্তিযুদ্ধের এই রক্তাক্ত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগে একটি স্মৃতি পরিষদ গঠন করা প্রয়োজন।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে।