মধ্যনগরে সাংবাদিকসহ ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের ৪৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:১৬
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে সাংবাদিকসহ ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের ৪৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গত ২৮ আগস্ট বিকেলে উপজেলার বাঙালভিটা এলাকায় মিছিলের ঘটনায় রোববার রাতে মধ্যনগর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করা হয়। মামলার বাদী বংশিকুন্ডা (উত্তর) বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শাহজাহান।
মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য রঞ্জিত চন্দ্র সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এখলাছুর রহমান তারা মিয়াকে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সমর্থক রয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা।
আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগ নেতা মো. আজিজ, এমরান হোসেন বিপক, জেলা ছাত্রলীগ নেতা রাজন মিয়া, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাজন চন্দ ও রোমন মিয়া, তাহিরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাজিদ মিয়া, ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য সুজন মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা জুয়েল আখঞ্জি, যুবলীগ কর্মী মো. সুজিত, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহদপ্তর সম্পাদক শাহীন মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা ইমন, বালিজুরি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়া উদ্দিন, দলের নেতা মহিবুর, নজির হোসেন, দৈনিক কালবেলার তাহিরপুর প্রতিনিধি সৈকত, আওয়ামী লীগের কর্মী আল আমিন, বালু খেকো হিসেবে পরিচিত মুশাহিদ হোসেন রানু, আওয়ামী লীগ কর্মী হাসান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি জাবের আহমেদ জাবেদ, তাহিরপুরের উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শামীম মিয়া, যুবলীগের নেতা সেলিম মিয়া, আওয়ামী লীগের সমর্থক শাকিল আহমদ, জুনায়েদ মিয়া, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক কাদের পাশা, যুবলীগের কর্মী আলী হোসেন,উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর মিয়া, ইকবাল হোসেন, ছাত্রলীগের নেতা সোহাগ, আওয়ামী লীগ নেতা রাসেল, ফারুক মিয়া, কবির মিয়া, সাজ্জাত, সাখাওয়াত হোসেন শিপন, আঙ্গুর মিয়া, যুবলীগের নেতা এমরুল হাসান ওরফে এমরান, আওয়ামী লীগ নেতা মিয়া হোসেন, লিমন মিয়া, মো. লিক্সন মিয়া, মো. আব্দুল আমিন, জিলানি, মো. জাহেদ মিয়া, জোটন রায় জনি, বংশিকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাসেল আহমদ, আওয়ামী লীগের কর্মী মো. কবির মিয়া ও সজীব।
এদিকে মামলায় তাহিরপুর উপজেলায় কর্মরত কালবেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকতের নাম রয়েছে। তিনি দাবি করেন, মিছিলের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলেও উপস্থিত ছিলেন না। তার অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মধ্যনগর থানার ওসি সাহাবুদ্দিন শাহিন বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তে কারো সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ আগস্ট বাঙালভিটা এলাকায় ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন। এ ঘটনায় তদন্তের পর রোববার রাতে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা নেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার জানান, সোমবার বিকেল পর্যন্ত মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
