তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই অনুচ্ছেদে গণভোটের প্রস্তাব বিএনপির
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৩৭
ছবি: সংগৃহীত
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধানসহ সংবিধানের আরও দুটি অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল বিএনপি। ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যেন এসব বিধান পরিবর্তন করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলো গণভোটের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকরা অংশ নেন। সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত ও প্রস্তাব নেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি জানান, অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই তাদের প্রস্তাব লিখিতভাবে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মতবিনিময় সভায় জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকরা সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও তফসিল নিয়ে মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের লিখিত প্রস্তাবও দিতে বলা হয়েছে। এসব মতামত কমিটিতে আলোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং এখনো জানানো হচ্ছে। তারা যখনই কমিটিতে যোগ দেবেন, তাদের স্বাগত জানানো হবে।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের যেসব বক্তব্য আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে যেগুলো গ্রহণযোগ্য, সবার মতামতের ভিত্তিতে আমরা গ্রহণ করব। এটা ভালো হতো তারা যদি আলোচনায় অংশগ্রহণ করতেন। তাহলে দলের পক্ষ থেকে উচ্চারিত অনেক বিষয় আমরা ধারণ করতে পারতাম।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের মধ্যে পক্ষ থাকুক, বিভক্তি না। জুলাই জাতীয় সনদ আমরা যেভাবে সই করেছি, সেভাবেই বাস্তবায়ন করব। এর বাইরে যেসব বিষয় আলোচনায় আসেনি বা বাদ পড়েছে, সেগুলোও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গ্রহণ করতে চাই।’
জুলাই জাতীয় সনদ ও বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রায়োরিটি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। তবে আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুসারে যে বিষয়গুলো আমরা উল্লেখ করে ম্যান্ডেট পেয়েছি, সেগুলো ধারণ করব।’
গণভোট প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধানসহ আরও দুটি অনুচ্ছেদকে গণভোটের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো সংসদ এসব বিধান পরিবর্তন করতে চাইলে যেন জনগণের অনুমোদন নিতে হয়, সে লক্ষ্যেই এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিতে যেহেতু আমরা একমত হয়েছি, আমরা ধারণ করব। ভবিষ্যতে কোনো পার্লামেন্ট অ্যামেন্ডমেন্ট করে সেটা পরিবর্তন করতে গেলে যেন গণভোটে যেতে হয়, এই চারটা বিধানের সঙ্গে এই দুইটা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একমত হয়েছি। এটা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল।’
তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে পাস হওয়ার পর যেসব অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজন হবে, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে সেসব বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে। প্রতিবেদনটির ভিত্তিতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিল আনা হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরের প্রথম অধিবেশন অর্থাৎ জানুয়ারি সেশনে বিলটি সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
