ছবি: সংগৃহীত
গরু নেই, গোয়ালঘর নেই, দুধ দোহনের ঝামেলাও নেই! আছে শুধু জেলি, সয়াবিন তেল, পানি আর চিনি। এসব উপকরণ ব্লেন্ডিং করেই তৈরি হচ্ছিল ‘খাঁটি দুধ’! এমন অভিনব প্রতারণার কারখানার সন্ধান মিলেছে পাবনার ভাঙ্গুড়ায়। তবে দুধের নামে এই বিষাক্ত কারবারের শেষটা হয়েছে মোটেও সুখকর নয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ হয়েছে বিপুল পরিমাণ উপকরণ, আর কারখানার মালিকের ঠিকানা হয়েছে কারাগার।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) উপজেলার কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামের আবুল বাশারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নকল দুধ তৈরির কারখানার সন্ধান পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় জব্দ করা হয় ২ হাজার ৭০০ লিটার জেলি, ২০০ কেজি সয়াবিন তেল এবং ৩২০ লিটার তৈরি করা নকল দুধ। পরে জব্দ করা এসব উপকরণ ও নকল দুধ ধ্বংস করা হয়।
জানা গেছে, জেলি, সয়াবিন তেল, পানি ও চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে ব্লেন্ডিং করেই তৈরি করা হচ্ছিল গরু ছাড়াই ‘আসল দুধ’। অর্থাৎ গোয়ালে গরু না থাকলেও দুধ উৎপাদনে কোনো ঘাটতি ছিল না এই কারখানায়!
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরা প্রথমে ঘটনাস্থলে গিয়ে নকল দুধ তৈরির প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার অনুরোধ জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া মমতাজের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নকল দুধ উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়ায় কারখানার মালিক আবুল বাশারকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ কাজে সহযোগিতা করার দায়ে কর্মচারী সবুজ হোসেনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক মাস কারাভোগ করতে হবে।
অভিযানে এনএসআই পাবনা কার্যালয়ের উপপরিচালক এ বি এম লুত্ফুল কবির, ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান এবং উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ অভিযানে সহযোগিতা করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানায় নকল দুধ তৈরি করে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করে আসছিলেন। এর আগে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে নকল দুধ তৈরির উপকরণ পাওয়া গেলেও এবারই প্রথম তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হলো।
এলাকাবাসীর দাবি, এই ভেজাল দুধ পান করে অনেক শিশু পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। যে দুধ হওয়ার কথা ছিল শিশুদের পুষ্টির উৎস, সেই দুধই হয়ে উঠেছিল তাদের অসুস্থতার কারণ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা শিশুদের খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
