শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধে জেল হত্যা দিবসের প্রদর্শনী স্থগিত সিলেটে মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ননীছড়া দখল-দূষণমুক্ত করার দাবি সুবিপ্রবির শিক্ষার্থীরাই একদিন দেশের নেতৃত্ব দেবে: উপাচার্য বিমানের দাম্মাম রুটে ফ্লাইট শুরু ৭ নভেম্বর সিলেটে গোপনে তৈরি হচ্ছিল নিষিদ্ধ ‘যৌন উদ্দীপক’ পণ্য, ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড সিলেটসহ সারাদেশে গ্যাস বন্ধের বিষয়ে পেট্রোবাংলা বলছে গুজব সিলেটে ময়লার ছবি তুলে জিতে নিন লাখ টাকা: সিসিকের ছবি তোলার প্রতিযোগিতা সিলেটে স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় স্বামীকে হ/ত্যা, গ্রেফ/তার এক দ্বারপ্রান্তে ‘মুরাসু’, চার সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা সৌদি প্রবাসীদের জন্য সরকারের ১৬ বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা

https://www.emjanews.com/

20261

international

প্রকাশিত

০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৮:৫৯

আপডেট

০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৫:৫৫

আন্তর্জাতিক

ইউরোপ-আমেরিকাজুড়ে খাবার-পানি মজুতের তাগিদ, তবে কি বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা?

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৮:৫৯

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। এর মধ্যেই নাগরিকদের বাড়িতে খাবার, পানি, ওষুধসহ জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন সরকার। কোথাও তিন দিন, কোথাও এক সপ্তাহ, আবার কোথাও ১০ দিনের প্রস্তুতির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ৯০ দিন স্বনির্ভরভাবে পরিচালনার সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগও সামনে এসেছে। তাহলে কি বড় কোনো যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ব? নাকি সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাইবার হামলা ও অবকাঠামোগত বিপর্যয় মোকাবিলায় আগাম সতর্ক হচ্ছে দেশগুলো?

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিকদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বাড়িতে কয়েক দিনের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, পাওয়ার ব্যাংক ও রেডিও রাখার পরামর্শ দিচ্ছে বিভিন্ন দেশের সরকার।

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশ নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনের প্রস্তুতি নিতে বলছে। সুইডেন ও নরওয়েতে এক সপ্তাহ এবং জার্মানিতে ১০ দিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও কয়েক দিনের খাবার ও পানি মজুত রাখার নির্দেশনা রয়েছে।

এসব নির্দেশনার কারণে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, ইউরোপ-আমেরিকাজুড়ে কি বড় কোনো যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে? বিশ্ব কি আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে?

বিভিন্ন দেশের সরকারি নির্দেশনা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের ঝুঁকির পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, চরম আবহাওয়া, সাইবার হামলা এবং বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে এসব প্রস্তুতিমূলক নির্দেশনা থেকে বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কোনো ভিত্তি নেই।

কেন খাবার-পানি মজুত রাখতে বলছে সরকার?
আধুনিক বিশ্বে মানুষের দৈনন্দিন জীবন বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট, ব্যাংকিং ও যোগাযোগব্যবস্থার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এসব পরিষেবার কোনো একটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়লে অন্য পরিষেবাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, বড় সাইবার হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বা ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যাহত হলে খাবার কেনা, টাকা তোলা কিংবা জরুরি যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। একইভাবে ভয়াবহ ঝড়, বন্যা কিংবা ভূমিকম্পের কারণে সরবরাহব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার সহায়তা পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে। তাই নাগরিকেরা যেন অন্তত কয়েক দিন নিজেদের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই প্রস্তুতির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে তিন দিনের প্রস্তুতির আহ্বান
গত ২২ অক্টোবর যুক্তরাজ্য সরকার ‘বি রেডি’ নামে একটি প্রচারাভিযান শুরু করে। এর মাধ্যমে নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতিতে অন্তত ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনায় একজনের জন্য প্রতিদিন তিন লিটার খাবার পানি, দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, পাওয়ার ব্যাংক এবং ব্যাটারিচালিত বা হাতল ঘুরিয়ে চালানো যায় এমন রেডিও রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঝড়, বন্যা, বিদ্যুৎবিভ্রাট কিংবা সাইবার হামলার মতো পরিস্থিতিতে এসব সামগ্রী কাজে আসতে পারে বলে মনে করছে সরকার।

খাবার ও জরুরি সরঞ্জামের বিক্রি বেড়েছে
সরকারের এই আহ্বানের পর যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরুরি সামগ্রীর বিক্রি বেড়েছে।

বিবিসির ‘নিউজ নাইট’ অনুষ্ঠানের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, সুপারমার্কেট চেইন আইসল্যান্ডে এক সপ্তাহান্তে টিনজাত খাবারের বিক্রি ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বোতলজাত পানির বিক্রিও বেড়েছে।

অন্যদিকে গৃহস্থালি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান রবার্ট ডায়াস জানিয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় তাদের রেডিও বিক্রি বেড়েছে ১৬০ শতাংশ।

ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রেতা ম্যাপলিনের হিসাবে, সরকারি ঘোষণার পর রেডিওর বিক্রি ৯২ শতাংশ, টর্চলাইটের বিক্রি ২৮৪ শতাংশ এবং পাওয়ার ব্যাংকের বিক্রি ১০৬ শতাংশ বেড়েছে।

তবে এগুলো নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রির পরিসংখ্যান। যুক্তরাজ্যে খাদ্যসংকট বা ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নয়।

ইউরোপের দেশগুলো কেন বেশি সতর্ক?
ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত, সাইবার নিরাপত্তা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

২০২৫ সালের মার্চে ইউরোপীয় কমিশন ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ইউনিয়ন স্ট্র্যাটেজি’ ঘোষণা করে। এতে সদস্যদেশগুলোর নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এই কৌশলের লক্ষ্য শুধু যুদ্ধের পরিস্থিতি মোকাবিলা নয়। বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার হামলা, স্বাস্থ্যসংকট এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিপর্যয় মোকাবিলায় ইউরোপকে প্রস্তুত রাখা।

সুইডেনের নির্দেশিকায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। দেশটির নাগরিকদের এক সপ্তাহ চলার মতো খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

নরওয়েতেও প্রায় এক সপ্তাহের প্রস্তুতির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জার্মানিতে এই সময়সীমা ১০ দিন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ৯০ দিনের প্রস্তুতি
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে আরও স্বনির্ভর করার উদ্যোগও আলোচনায় এসেছে।

২ নভেম্বর দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ‘ফোর্ট্রেস আমেরিকা’ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, বাইরের সহায়তা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলো যেন অন্তত ৯০ দিন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।

এ জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানির স্বনির্ভরতা, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মজুত, সরবরাহব্যবস্থা এবং সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক ঘাঁটির জন্য ৯০ দিনের প্রস্তুতি সাধারণ নাগরিকদের জন্য দেওয়া কোনো নির্দেশনা নয়। এটি সামরিক স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম সচল রাখার পরিকল্পনা।