‘গোপালগঞ্জ মুজিববাদীদের হবে না, হবে বাংলাদেশপন্থিদের।’: নাহিদ ইসলাম
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫ ১৪:০৪
ছবি: সংগৃহিত।
গোপালগঞ্জে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা আবারো গোপালগঞ্জে যাবো।
জীবিত থাকলে গোপালগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায়, প্রতিটি গ্রামে কর্মসূচি চালিয়ে যাবো। তাঁর ভাষায়, ‘গোপালগঞ্জ মুজিববাদীদের হবে না, হবে বাংলাদেশপন্থিদের।’
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গোপালগঞ্জ নিয়ে আমাদের অবস্থান আগেই পরিষ্কার করা হয়েছে। দেশের প্রতি আমাদের যে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তার ব্যত্যয় গোপালগঞ্জেও হবে না। গোপালগঞ্জের অধিবাসীদের প্রতি রাজনৈতিক বৈষম্য আমরা প্রত্যাখ্যান করি। আমরা এই জেলা ও গোটা দেশকে মুজিববাদী সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ যুগের পর যুগ গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষকে বিপন্ন করেছে, মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করেছে এবং সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, ‘আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে মুজিববাদী সন্ত্রাসীরা। আমরা যুদ্ধের জন্য যাইনি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পথসভা করতে গিয়েছিলাম। ঠিক যেভাবে ৫ই জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও আমরা গিয়েছিলাম। আওয়ামী লীগ সবসময়ই গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্টের পরেও অনেকে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ আনার চেষ্টা করেছে, কিন্তু মনে রাখতে হবে-আওয়ামী লীগ এখন আর রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হয়েছে।’
জুলাই গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বলে আসছি- আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিচার চাই। কিন্তু এখনও ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অনেক হামলাকারী গ্রেপ্তার হয়নি, আর যাদের ধরা হয়েছে, তারা জামিনে বেরিয়ে যাচ্ছে কিংবা থানা থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের ভেতরে থাকা দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের কারণে বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, ‘আমরা নিরাপত্তাবাহিনীর নির্দেশনা মেনে গোপালগঞ্জে প্রবেশ করেছি। পদযাত্রা করিনি, শুধু পথসভা করেছি। কিন্তু এরপরও সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছি। হামলার পর আমরা নির্ধারিত নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী সেখান থেকে বেরিয়ে আসি।’
পোস্টে নাহিদ ইসলাম চারজন কর্মীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেন, ‘আমরা কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করি না। প্রত্যাশাও করি না। আমরা চাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং যারা হামলার পেছনে রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। শুধু গোপালগঞ্জ নয়, সারা দেশজুড়ে গ্রেপ্তার অভিযান চালাতে হবে।’
আন্দোলনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শহীদ বাবু মোল্লা, শহীদ রথীন বিশ্বাসের গোপালগঞ্জকে আমরা পুনরুদ্ধার করব। মকসুদপুর ও কোটালীপাড়ায় আমাদের শহীদদের কবর আছে, এই মাটি আমরা মুজিববাদীদের হাতে তুলে দেব না। বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটিও তাদের হবে না ইনশাআল্লাহ।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি গতকালের হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় নামা নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ফরিদপুরে পরবর্তী পদযাত্রায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
