https://www.emjanews.com/

8197

politics

প্রকাশিত

০৭ আগস্ট ২০২৫ ১৬:২৬

আপডেট

০৭ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৪০

রাজনীতি

রাজনীতি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে সাগর পাড়ে গিয়েছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৫ ১৬:২৬

ফাইল ছবি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লিখিত জবাব দিয়েছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শোকজের জবাবের কপি প্রকাশ করে তিনি জানান, কক্সবাজার ভ্রমণ ছিল ‘একান্ত ব্যক্তিগত এবং চিন্তা-ভাবনার অংশ’, যা দলের শৃঙ্খলা বা নীতিমালার পরিপন্থী নয়।

লিখিত জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, “৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে আমার কোনো পূর্বনির্ধারিত রাষ্ট্রীয় বা সাংগঠনিক কর্মসূচি ছিল না। দল থেকেও আমাকে এ সংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব জানানো হয়নি।” তিনি দাবি করেন, ৪ আগস্ট রাতে দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ তার কোচিং অফিসের সহকর্মীর ফোন ব্যবহার করে জানান যে, তিনি স্কুল বন্ধুদের সঙ্গে দুই দিনের জন্য ঘুরতে যাবেন। তখন তাকে বিষয়টি দলীয় আহ্বায়ককে জানানোর পরামর্শ দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি নিজেও একই রাতে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে বিষয়টি অবহিত করেন বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দল থেকে তিনজন প্রতিনিধি যাচ্ছেন এবং সেখানে আমার কোনো দায়িত্ব নেই জেনে আমি ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও মানসিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।” সফরসঙ্গী হিসেবে সস্ত্রীক সারজিস আলম ও তাসনিম-খালেদ সাইফুল্লাহ দম্পতি যুক্ত হন বলেও জানান তিনি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমি ঘুরতে গিয়েছিলাম, তবে এই ঘোরার লক্ষ্য ছিল রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে একান্তে চিন্তা-ভাবনা করা। সাগরের পাড়ে বসে আমি গভীরভাবে ভাবতে চেয়েছি গণঅভ্যুত্থান, নাগরিক কমিটি, নাগরিক পার্টির কাঠামো, ভবিষ্যৎ গণপরিষদ এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধানের রূপরেখা নিয়ে। আমি এটিকে কোনো অপরাধ মনে করি না, বরং একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য এটি একটি দায়িত্বশীল মানসিক চর্চা।”

কক্সবাজার পৌঁছানোর পর হঠাৎ গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তারা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন, এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। হোটেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, সেখানে পিটার হাস নামে কেউ ছিলেন না। পরবর্তীতে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তিনি তখন ওয়াশিংটনে অবস্থান করছিলেন।”

তিনি এই গুজবকে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, “আমি অতীতেও এই হোটেলে থেকেছি এবং কখনো কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। অনেকবার ঘুরতে গিয়েছি, কিন্তু ঘোরার কারণে দলীয় বিধিমালা লঙ্ঘন হয়, এমন বার্তা কখনো দল থেকে পাইনি।” তিনি মনে করেন, “শোকজ নোটিশটি বাস্তবভিত্তিক নয়। সফর ছিল স্বচ্ছ, সাংগঠনিক নীতিমালাবিরোধী নয় এবং এটি একান্ত ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনার সুযোগ মাত্র।”

জবাবের শেষাংশে তিনি লেখেন, “তবুও দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রেখে আমি এই লিখিত জবাব প্রদান করছি। অসভ্য জগতে সভ্যতার এক নিদর্শন হিসেবে। আমার বক্তব্য স্পষ্ট, ঘুরতে যাওয়া অপরাধ নয়। কারণ ইতিহাস কেবল মিটিংয়ে নয়, অনেক সময় নির্জন চিন্তার ঘরে বা সাগরের পাড়েও জন্ম নেয়।”

এর আগে গতকাল বুধবার (৬ আগস্ট) এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে পাঁচ শীর্ষ নেতার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। এই পাঁচ নেতা হলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডা. তাসনিম জারা এবং খালেদ সাইফুল্লাহ। নোটিশে বলা হয়, ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর প্রথম বর্ষপূর্তি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে তারা ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজার গিয়েছেন, যা রাজনৈতিক পর্ষদকে অবহিত না করেই করা হয়েছে। তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেনের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

গত মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজার যান এনসিপির এই পাঁচ শীর্ষ নেতা। পরে সেদিন বিকেলে অন্য একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকায় ফিরে আসেন। দল ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এর বর্ষপূর্তির দিন কেন্দ্রীয় নেতাদের রাজধানীর বাইরে অবস্থান নিয়ে দিনভর নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলতে থাকে।