https://www.emjanews.com/

8292

politics

প্রকাশিত

১০ আগস্ট ২০২৫ ১৩:০২

আপডেট

১০ আগস্ট ২০২৫ ১৫:৩১

রাজনীতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

হলে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পক্ষে শিবির, গুপ্ত রাজনীতি বাড়ার আশংকা ছাত্রদলের

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৫ ১৩:০২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এতে হলগুলোতে প্রকাশ্য ও গোপনে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে। এই ঘোষণা গত শুক্রবার গভীর রাতে আসে। তবে শনিবার দিনভর প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য না আসায় বিষয়টি নিয়ে ছাত্র এবং বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে আলোচনা চলছে।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন রয়েছে। এর মধ্যে হলগুলোতে রাজনীতি বন্ধ রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুক্রবার রাতেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে। তারা রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশ করে, এরপর উপাচার্য ও প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলে। উপাচার্য পূর্বের ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই নেওয়া হল প্রভোস্টদের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার কথা বলেন এবং বলেন রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত থাকবে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি নিষিদ্ধের দাবি জানায়। পরে প্রক্টর প্রকাশ্য ও গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা দেন।
এরপর স্যার এ এফ রহমান হলে প্রভোস্ট অফিস থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যেখানে বলা হয়, রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর কমিটিভুক্তরা পদত্যাগ ও মুচলেকা দিলে শুধু হলে অবস্থান করতে পারবে, না হলে বহিষ্কার করা হবে।
এ ঘোষণার পেছনে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের একটি ঘটনা রয়েছে, যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের হামলার পর ছাত্রলীগকে হল থেকে বিতাড়িত করা হয়। তখন শিক্ষার্থীরা হল প্রাধ্যক্ষদের কাছ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর নেন, যাতে হলগুলোতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকবে।

তবে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এই সিদ্ধান্তকে ‘বিরাজনীতি’ বলছেন এবং মনে করেন, প্রক্টরের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা কমানোর জন্য বলা হয়েছে, বাস্তবে হলে রাজনীতি বন্ধ করা যাবে না, বরং গুপ্ত রাজনীতি বাড়বে।
অন্যদিকে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক আবদুল কাদের বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি হল ও একাডেমিক এলাকায় রাজনীতি বন্ধ করা হোক। তার কথায়, বেশ কিছু ছাত্রসংগঠনের মধ্যে অলিখিত সমঝোতা ছিল এই ব্যাপারে।
বামপন্থী ও বিপ্লবী ছাত্র সংগঠনগুলো মনে করে, প্রক্টরের এই ঘোষণা দেওয়ার এখতিয়ার নেই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো জায়গায় ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার আইনি ভিত্তি নেই। তারা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে যৌথ সিদ্ধান্ত নিতে চান।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হলে রাজনীতি না থাকলেই ভালো, রাজনীতি হলে সেটা হলে না হয়ে হলে বাইরে হওয়া উচিত।
এছাড়া গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, ছাত্রদল, বাম সংগঠনগুলো শিবিরের গোপন রাজনীতি চালানোর অভিযোগ করেছে। তারা শিবিরকে প্রকাশ্যে রাজনীতি করার আহ্বান জানায়। শিবির পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলছে, প্রকাশ্যে কমিটি না থাকলে গুপ্ত রাজনীতি বাড়বে এবং প্রক্টর কীভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করবেন তা কঠিন। তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্ক ও উত্তেজনা এখনও চলছে।