
ছবি: হোয়াইট হাউসের সাবেক কর্মকর্তা জ্যাক সুলিভান
ভারতের পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন হোয়াইট হাউসের সাবেক কর্মকর্তা ও জো বাইডেন প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান।
তার অভিযোগ, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে ’‘আমেরিকান ব্র্যান্ডের’ সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটিকে অবিশ্বস্ত হিসেবে তুলে ধরছে।
সুলিভান বলেন, শুল্কনীতির কারণে চীন এখন তুলনামূলকভাবে ‘দায়িত্বশীল খেলোয়াড়’ হিসেবে সামনে আসছে।
দ্য বালওয়ার্ক পডকাস্টে তিনি জানান, এক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্র জনপ্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে ছিল, কিন্তু এখন বহু দেশ মনে করছে ’আমেরিকার ব্র্যান্ড টয়লেটে চলে গেছে’।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, সম্প্রতি ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। অভিযোগ, নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করছে না এবং অন্যায্য বাণিজ্যনীতি অনুসরণ করছে।
তবে সুলিভান মনে করেন, প্রকৃত কারণ রাজনৈতিক- পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে মধ্যস্থতার ট্রাম্পের দাবি ভারত প্রত্যাখ্যান করায় নয়াদিল্লিকে সাজা দিচ্ছেন তিনি।
সাবেক এই কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভারতের চীনমুখী হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। গালওয়ান সংঘর্ষের (২০২০) পর প্রথমবার ভারত-বেইজিং সম্পর্কে অগ্রগতি এসেছে, যার পেছনে ট্রাম্পের শুল্কনীতিই ভূমিকা রাখছে।
শুধু সুলিভান নন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনসহ আরও অনেক সাবেক কর্মকর্তা ট্রাম্পের শুল্কনীতির কড়া সমালোচনা করেছেন।
তাদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনের মার্কিন কৌশলকে বিপদে ফেলছে এবং মিত্রদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ জেফ্রি স্যাচস একে ‘মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে নির্বোধ কৌশলগত পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব শুল্ক শুধু বাণিজ্যে নয়, ভূরাজনীতিতেও যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করছে।