মাধবপুর
৩ কোটি টাকার ব্রিজ ব্যবহারে অনুপযোগী, বিপদে সুরমা চা বাগানের শ্রমিক ও স্থানীয়রা
প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ২১:০৭
ছবি: সংগৃহিত
দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ চা বাগান মাধবপুরের সুরমা চা বাগান এলাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজ দুই বছর ধরে ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ব্রিজের দুইপাশের মাটি ধসে যাওয়ায় প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা ও চা শ্রমিক দৈনন্দিন যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন শত শত চা শ্রমিক ও স্কুল শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে ছড়া নদী পারাপার করছেন। ব্রিজটি সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব আলীর সময়ে নির্মিত হলেও, অল্প সময়ের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও নিম্নমানের কাজের কারণে সংযোগ মাটি বৃষ্টিতে ধ্বসে গেছে। বর্তমানে ছড়া নদীর তলদেশে পানি জমে যাওয়ায় পারাপার আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
বাগানের ২০ নম্বর সেকশনের চা শ্রমিকরা ব্রিজটিকে ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এক নারীশ্রমিক বলেন, ‘দুই বছর ধরে ভাঙা ব্রিজের কারণে আমরা প্রচণ্ড কষ্টে আছি। বর্ষার সময় পার হওয়া অসম্ভব।’
অন্য আরেক শ্রমিক বলেন, ‘এত টাকা খরচ করে ব্রিজটি বানানো হলেও এখন এটি মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে।’
বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক কমল সরকার জানান, ‘আমরা উপজেলা প্রশাসনে একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়ে এসেছি, কিন্তু এখনও কোনো পদক্ষেপ হয়নি। প্রতিদিন শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে, দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’
স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, ‘স্কুলের শিশুরা ব্রিজ পার হয়, একটু অসতর্ক হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল নবী জানিয়েছেন, ‘দু’পাশের মাটি সরে যাওয়ায় ব্রিজটি ব্যবহারের অনুপযোগী। সংস্কারের জন্য নতুন বাজেট প্রয়োজন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কোটি টাকার প্রকল্পটি নির্মাণের পরপরই মাটি ধসে পড়লেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় থাকার কারণে ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পথে, ফলে শ্রমিক ও স্থানীয়দের পণ্য পরিবহন, স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও রোগী পরিবহনে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা দ্রুত ব্রিজটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘সংস্কার হলে আমাদের যাতায়াত সহজ হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।’
