আজ ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’
১৯৮৩ সালের ছাত্র আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৮:৪০
ছবি: সংগৃহীত
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’। ১৯৮৩ সালের এই দিনে তৎকালীন সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের আন্দোলনে রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। সামরিক সরকারের ঘোষিত শিক্ষানীতির প্রতিবাদে রাজপথে নেমে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী। নিহতদের মধ্যে জয়নাল ও দীপালির নাম উল্লেখযোগ্য।
জানা যায়, ১৯৮২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এরশাদ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. মজিদ খান একটি নতুন শিক্ষানীতির প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত নীতিতে প্রথম শ্রেণি থেকেই আরবি ও দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে মেধার পাশাপাশি অন্তত ৫০ শতাংশ ব্যয়ভার বহনের সক্ষমতাকে শর্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়।
এই শিক্ষানীতিকে বৈষম্যমূলক ও শিক্ষাবিরোধী আখ্যা দিয়ে দেশের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন একযোগে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে এগিয়ে গেলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেল, আইয়ুব, কাঞ্চন, দিপালীসহ বেশ কিছু শিক্ষার্থী নিহত হন এবং অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত ও গ্রেফতারের শিকার হন।। ওই দিনটি ইতিহাসে রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।
ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। ক্রমেই এই আন্দোলন গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়, যা দীর্ঘ সাত বছর ধরে চলতে থাকে। অবশেষে ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। এর আগে সরকার এক ঘোষণায় বিতর্কিত শিক্ষানীতি স্থগিত করতে বাধ্য হয়।
দিবসটি স্মরণে প্রতি বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন শিক্ষা ভবনের মোড়স্থ শিক্ষা অধিকার চত্বরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও স্মরণ সভা।
বক্তারা বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারির আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। তারা শহীদদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে গণতন্ত্র ও শিক্ষার অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
