https://www.emjanews.com/

13820

sylhet

প্রকাশিত

১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০:১৩

সিলেট

মন্ত্রীত্বের দৌড়ে সিলেটের হেভিওয়েটরা

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০:১৩

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয়ের পর নতুন সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। বিশেষ করে সিলেট বিভাগ থেকে কারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন-এ নিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহের কমতি নেই।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সিলেট-১ আসনের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের এম নাসের রহমান, হবিগঞ্জ-১ আসনের ড. রেজা কিবরিয়া এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনের আলহাজ্ব জি কে গউছের নাম মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া দলের প্রতি ‘সেক্রিফাইস’-এর জন্য টেকনোক্রেট কোটায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক) হুমায়ুন কবির, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী এবং সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলার ছয়টি আসনের সমন্বয়ক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশন ও সিলেট সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি রাজনৈতিক মিথ প্রচলিত রয়েছে-এই আসনে যে দল জয়ী হয়, সেই দলই সরকার গঠন করে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বিজয়ী হয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার পিতা ১৯৯১ সালে সিলেট বিভাগের বিএনপির একমাত্র সংসদ সদস্য ছিলেন। অতীতেও দেখা গেছে, এই আসনের এমপি মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। ফলে এবারও তাকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করছেন নেতা-কর্মীরা।

সিলেট সিটি করপোরেশনের দুইবারের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন। তার সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের বিশ্বাস, জনপ্রিয়তা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনিও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।

সিলেট-২ (বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। এ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে হুমায়ুন কবিরকে টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরীকে টেকনোক্রেট কোটায় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা করা হতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তিনি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলের স্বার্থে সরে দাঁড়ান। পরবর্তীতে তাকে সিলেট জেলার কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার নেতৃত্বে সিলেট জেলার পাঁচটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হন। দলের নেতা-কর্মীদের মতে, এই ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

নবীগঞ্জ-বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-১ আসনে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। তাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

এ ছাড়া বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জি কে গৌছ এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনের চারবারের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের নামও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকায় রয়েছে।

তবে মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাবেন, সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি দলের চেয়ারম্যান ও সংসদ নেতার এখতিয়ার। এখানে ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা চাপের কোনো ভূমিকা থাকবে না। দলের প্রয়োজন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে সিলেট বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চরম কৌতূহল ও আলোচনার ঝড় বইছে।