সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি। বাকি একটিতে জয়ী হয়েছেন মুফতি আবুল হাসান। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো আসনে বিজয়ী হতে পারেনি। নির্বাচনে এমন একচেটিয়া ফলাফলের পরও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা ঘিরে আলোচনায় সিলেট থেকে পূর্ণমন্ত্রীর নাম না থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে।
সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার রোববার সংসদ সদস্যদের শপথের পর মন্ত্রিসভা গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাওয়া বিএনপি নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতাকে গুরুত্ব দেবে বলেও আলোচনা রয়েছে।
তবে সিলেট ঘিরে যে আলোচনা চলছে, সেখানে পূর্ণমন্ত্রীর বদলে একাধিক প্রতিমন্ত্রীর নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। দলীয় সূত্রের দাবি, সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী, সিলেট-৪ আসন থেকে আরিফুল হক চৌধুরীকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত ড. রেজা কিবরিয়া পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রাখার আলোচনা রয়েছে। এছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্র্যাট কোটায় সিলেট-৫ আসনে জোট প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকর নামও শোনা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনা করা হতে পারে। আইনমন্ত্রী হিসেবে ঝালকাঠি থেকে নির্বাচিত সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামানর নাম আলোচনায় রয়েছে। অর্থমন্ত্রী হিসেবে হবিগঞ্জ থেকে নির্বাচিত ড. রেজা কিবরিয়ার নাম শোনা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁর পক্ষে বিবেচিত হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্র্যাট কোটায় হুমায়ুন আহমেদের নামও আলোচনায় আছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত ড. এম এ মুহিতর নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া স্পিকার হিসেবে ড. আব্দুল মঈন খান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মির্জা আব্বাস, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নজরুল ইসলাম খানর নামও বিবেচনায় আছে বলে জানা গেছে।
নতুন মুখ হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে রুহুল কবির রিজভী এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানির নাম আলোচনায় রয়েছে। মন্ত্রী পদে চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আরিফুল হক চৌধুরী ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরর নামও শোনা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে প্রায় একচেটিয়া ফল অর্জনের পর সিলেটবাসীর প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বেশি। তবে দলীয় সূত্রগুলো বলছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। শপথের পর মন্ত্রিসভার গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে সিলেট থেকে কেউ পূর্ণমন্ত্রী হচ্ছেন কি না, নাকি প্রতিমন্ত্রী পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকছে প্রতিনিধিত্ব।
