https://www.emjanews.com/

13859

national

প্রকাশিত

১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৮:৫০

জাতীয়

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় চার বিএনপি নেতা

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৮:৫০

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে সরকার গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে আলোচনায় উঠে এসেছে-দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পদত্যাগ করতে পারেন-এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে। তিনি ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকার কথা।

তবে গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, সব কনস্যুলেট, দূতাবাস ও হাইকমিশন থেকে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি হঠাৎ সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যা জনগণের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিয়েছে। এতে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন।

ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’

সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক প্রোফাইল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে দলের মহাসচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে পরিচিত। দলীয় সূত্র মতে, তিনি তুলনামূলকভাবে নীরব ও কম বিতর্কিত নেতা হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন।

নজরুল ইসলাম খান দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দলের ভেতরে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে রাখার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে, আব্দুল মঈন খান একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন।

সব মিলিয়ে, আলোচনায় থাকা এই তালিকা থেকেই একজনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মন্ত্রিপরিষদের শপথ গ্রহণের পরপরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হতে পারে।