https://www.emjanews.com/

13873

international

প্রকাশিত

১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২২:৪৩

আন্তর্জাতিক

ভারতে ‘চিকেন্স নেক’-এ ভূগর্ভস্থ রেললাইন, ব্রহ্মপুত্রের নিচে সুড়ঙ্গ অনুমোদন

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২২:৪৩

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড ‘চিকেন্স নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডর-এ মাটির নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ কেটে রেললাইন স্থাপনের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত করেছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে আসামে ব্রহ্মপুত্র নদ-এর নিচ দিয়ে দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ নির্মাণের একটি বড় প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিন মাইল হাট এলাকা থেকে শিলিগুড়ি শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরের রাঙাপাণি পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে নতুন রেললাইন বসানো হবে।

উত্তর-পূর্ব রেলওয়ের মুখপাত্র কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, ‘প্রকল্পটির কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়নি।’

তবে ভারতের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব কেন্দ্রীয় বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই প্রকল্পের বিষয়ে প্রথম প্রকাশ্যে জানান। ফলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে, আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

ভূ-কৌশলগত দিক থেকে শিলিগুড়ি করিডর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশটির প্রস্থ গড়ে মাত্র ২০ কিলোমিটার। এর এক পাশে বাংলাদেশ, উত্তরে চীন এবং পশ্চিমে নেপাল অবস্থিত। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল যোগাযোগের পথ এই করিডর দিয়েই যায়।

বর্তমানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পরিবহনেও এই করিডর ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ নতুন রেললাইনটি কেবল বেসামরিক যোগাযোগ নয়, সামরিক দিক থেকেও বড় কৌশলগত সুবিধা দেবে ভারতকে।

এদিকে, গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আরেকটি বড় প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে ট্রেন ও গাড়ি-উভয়ই চলাচল করতে পারবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।