পদোন্নতি বঞ্চিত মেধাবীদের প্রতিদান দেবে বিএনপি সরকার
সীমিত পরিসরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, দুই বছরের মধ্যে বন্ধের পরিকল্পনা
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০:১৫
ছবি: সংগৃহীত
সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর খুবই সীমিত পরিসরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন চালু রাখার পরিকল্পনা নেই বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। মেধাভিত্তিক ও গতিশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে সরকারের মেয়াদের সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের লাগাম টেনে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, গত ১৭ বছরে প্রশাসনসহ বিভিন্ন সার্ভিসে যেসব মেধাবী, দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তা পদোন্নতি বঞ্চনাসহ নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাদের দেশের স্বার্থে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেবে নতুন সরকার। রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই এসব কর্মকর্তাকে মূল্যায়ন করা হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) যুগান্তরকে বলেন,
“দায়িত্ব নিতে যাওয়া বিএনপি সরকারকে কিছু চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতেই হবে। কারণ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অসংখ্য মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তাকে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে দফায় দফায় পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়েছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সুযোগ থাকলেও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি-এমন কর্মকর্তার সংখ্যাও কম নয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত মেধাভিত্তিক দক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলতে আমাদের কিছু সিনিয়র স্যারদের কাজের সুযোগ দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে।”
সূত্র আরও জানায়, শুধু জনপ্রশাসন নয়, সব সার্ভিসেই যারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, তাদের সুযোগ ও সক্ষমতা অনুযায়ী মূল্যায়ন করার উদ্যোগ নেবে বিএনপি সরকার।
তবে সরকারের মূল লক্ষ্য থাকবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রেখে শুধুমাত্র জনস্বার্থে কাজে লাগানো। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনগণের সেবায় মনোযোগী মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের বিতর্কিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমে আসবে।
