ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি’র সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘পরমাণু আলোচনা ঘিরে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়ানো অস্বাভাবিক নয়। তবে তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো অস্থায়ী সমঝোতার খবরের বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আলোচনার টেবিলেই কেবল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাইরে ছড়িয়ে পড়া এসব দাবি নিশ্চিত বা বিশ্বাসযোগ্য নয়।’
পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তা স্টিভ উইটকফ-এর মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বাঘাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নতুন কিছু নয়।’ তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরানের রাজনৈতিক অভিধানে ‘নতিস্বীকার’ বা ‘আত্মসমর্পণ’ শব্দ নেই। গত ৪৭ বছর ধরে সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষা করাই ইরানের প্রধান লক্ষ্য।
এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি-কে ইরানের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ শর্ত দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরান কোনো ছাড় দেবে না। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর বিমান ও নৌবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সত্তা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে বাঘাই বলেন, এখন থেকে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের অঞ্চলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ভুক্ত ২৭টি দেশের সামরিক উপস্থিতিকে ইরান ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখবে। এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান সফর বা নতুন কোনো প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়ে আলি লারিজানি-র সম্ভাব্য সফর সম্পর্কেও তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নির্ধারিত আলোচনার প্রসঙ্গে বাঘাই বলেন, তেহরান আলোচনার মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করতে চায় না। তারা একটি চূড়ান্ত ও অর্থবহ ফলাফলের জন্য প্রস্তুত। তবে কোনো পক্ষ যদি একতরফাভাবে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দিতে চায়, তাহলে সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনার আড়ালে কোনো প্রতারণা বা সংঘাতের পথ বেছে নেয়, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো সামরিক উস্কানির দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত।
