https://www.emjanews.com/

13866

international

প্রকাশিত

১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০:৪০

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক মহড়া

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০:৪০

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমাতে দ্বিমুখী কৌশল নিয়েছে ইরান। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার পথে এগোচ্ছে তেহরান, অন্যদিকে যেকোনো সম্ভাব্য আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী-তে সামরিক মহড়া শুরু করেছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

ইরান একদিকে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে, ঠিক সেই সময়ই এই সামরিক মহড়া শুরু হওয়াকে দ্বিমুখী কৌশলের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকরা যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন দফার পরমাণু আলোচনায় অংশ নিতে জেনেভায় পৌঁছেছেন, তখনই হরমুজ প্রণালীতে নৌ-মহড়া চালু করে তেহরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার পরপরই আইআরজিসি এই মহড়া শুরু করে। ঊর্ধ্বতন কমান্ডারদের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে মহড়াটি পরিচালিত হচ্ছে। তবে এর সময়সীমা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, এই মহড়ার লক্ষ্য হলো প্রণালীতে ‘সম্ভাব্য নিরাপত্তা ও সামরিক হুমকি’ মোকাবিলায় বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা।

ইরানের কট্টরপন্থী রাজনীতিকরা আগেও একাধিকবার হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। আইআরজিসি ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি আদর্শিক ও শক্তিশালী শাখা হিসেবে পরিচিত।

এই সামরিক মহড়া নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরুর প্রেক্ষাপটেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিতে জেনেভায় পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।

চলতি মাসের শুরুতে প্রথম দফার বৈঠকের পর তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জেনেভায় আরাকচি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি-র সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তেহরান ও জাতিসংঘের এই পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার মধ্যে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের পর এই বৈঠককে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় আব্বাস আরাকচি লেখেন, `আমি একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য বাস্তবসম্মত ধারণা নিয়ে জেনেভায় এসেছি।”
তিনি আরও বলেন, “একটি বিষয় আলোচনার টেবিলে নেই—তা হলো হুমকির মুখে নতি স্বীকার করা।'

বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া চালিয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে একদিকে সংলাপের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে শক্ত অবস্থানেরও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।