https://www.emjanews.com/

15621

national

প্রকাশিত

১৩ মে ২০২৬ ১৮:২৭

জাতীয়

অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ ১৮:২৭

ছবি: পদ্মা ব্যারেজ।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। প্রকল্পটির মোট প্রস্তাবিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

একনেক সূত্র জানায়, সভায় মোট ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১১ নম্বর কার্যতালিকায় ছিল পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। এর আগে কয়েক দফা একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন মেলেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও এটি আলোচনায় এলেও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে স্বাদু পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

একনেক সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে বহুদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ খুলে গেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। এতে কমবে লবণাক্ততা, প্রাণ ফিরে পাবে মৃতপ্রায় নদ-নদী, পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, নৌ-চলাচল ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে গঙ্গার পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে প্রবাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার লক্ষ্য ছিল কলকাতা বন্দরের নাব্য উন্নয়ন। তবে ফারাক্কার উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে বাংলাদেশ অংশে পদ্মা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। এর প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়ালসহ বেশ কয়েকটি নদী শুকিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হতে পারে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানি ধরে রেখে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নদী ব্যবস্থায় স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ পানি বণ্টন ইস্যুকে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। ফলে ফারাক্কা ব্যারেজকেন্দ্রিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন সফল হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং সুন্দরবান-এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।