যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ব্রিটেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির চ্যা.লেঞ্জ
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ ০২:৩৫
ব্রিটেনের তরুণ শিক্ষার্থী হেনরি নওয়াকের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে এই বিতর্কের কেন্দ্রে শুধু হত্যাকাণ্ড নয়, বরং সেই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বয়ানও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যখন নওয়াকের মৃত্যুকে ‘গণ-অভিবাসনের পরিণতি’ হিসেবে তুলে ধরলেন, তখন ব্রিটেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি প্রকাশ্যেই তার বিরোধিতা করলেন।
ল্যামির বক্তব্য ছিল স্পষ্ট-হেনরি নওয়াকের হত্যার সঙ্গে গণ-অভিবাসনের কোনও সম্পর্ক নেই।
গত বছরের ডিসেম্বরে সাউদাম্পটনে ১৮ বছর বয়সী হেনরি নওয়াককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ভিক্রম ডিগওয়া। আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, ডিগওয়া মিথ্যা দাবি করেছিল যে সে বর্ণবাদী হামলার শিকার হয়েছিল এবং আত্মরক্ষার্থে আঘাত করেছে। বাস্তবে সে-ই ছিল হামলাকারী। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডিগওয়া নিজেই ব্রিটিশ নাগরিক এবং যুক্তরাজ্যেই জন্মগ্রহণ করেছে।
এই তথ্য সত্ত্বেও জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইউরোপের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ‘গণ-অভিবাসন’ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়াতেই এমন ঘটনা ঘটছে। তার বক্তব্য দ্রুত ডানপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমর্থন পেলেও সমালোচকেরা বলেন, এটি একটি অপরাধকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা।
ডেভিড ল্যামি সেই কারণেই সরাসরি ফোন করে ভ্যান্সকে জানান, তার মন্তব্য ভুল। ল্যামির ভাষায়, এটি ছিল একটি “কঠোর কিন্তু সম্মানজনক” আলোচনা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, নিহত হেনরি নওয়াকের পরিবার নিজেরাই এই ঘটনাকে ঘিরে বিভাজন বা ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
আসলে এই ঘটনাটি আধুনিক রাজনীতির একটি বড় প্রবণতাকে সামনে নিয়ে আসে। কোনও অপরাধ সংঘটিত হলেই সেটিকে বৃহত্তর অভিবাসন বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, এমনকি যখন ঘটনার সঙ্গে অভিবাসনের প্রত্যক্ষ কোনও সম্পর্ক থাকে না। এতে প্রকৃত সমস্যার সমাধানের বদলে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়ে।
হেনরির বাবা মার্ক নওয়াক আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, তিনি চান না তার ছেলের মৃত্যু সমাজে আরও বিভেদ, বিদ্বেষ বা উত্তেজনার কারণ হয়ে উঠুক। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তার সেই আহ্বানকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করার অস্ত্র হিসেবে এই ঘটনাকে ব্যবহার করতে চাইছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আহত অবস্থায় পড়ে থাকা হেনরি নওয়াককেই পুলিশ প্রথমে হাতকড়া পরিয়েছিল, কারণ হামলাকারী নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। পরে সেই সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চেয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বাহিনী। এই ঘটনা পুলিশের প্রশিক্ষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বর্ণবাদবিরোধী নীতিমালার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তবে পুরো বিতর্কের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হয়তো ল্যামির মন্তব্যেই উঠে এসেছে। একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়া উচিত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক আবেগ বা মতাদর্শের ভিত্তিতে নয়। হেনরি নওয়াকের মৃত্যু নিঃসন্দেহে একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। কিন্তু সেই ট্র্যাজেডিকে যদি ভুল তথ্য বা রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার বানানো হয়, তাহলে তা নিহতের স্মৃতির প্রতিও অবিচার হয়ে দাঁড়ায়।
