https://www.emjanews.com/

16186

sports

প্রকাশিত

০৮ জুন ২০২৬ ০২:১১

আপডেট

০৮ জুন ২০২৬ ০২:২৬

খেলাধুলা

বিশ্বকাপ ম্যাচের জন্য ইরান ফুটবল দলের ২৪ ঘন্টার আমেরিকান ভিসা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ ০২:১১

ইরান ফুটবল দল (ছবি: সংগৃহীত)

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে আবারও সামনে চলে এসেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির তিক্ত বাস্তবতা। খেলাধুলাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মাঠের বাইরের কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব খেলাটির স্বাভাবিক পরিবেশকে নষ্ট করছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় আমেরিকার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান। অভিযোগ, বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসা ইরান দলকে এমন কিছু শর্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা অন্য কোনও দেশের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে না।

আমেরিকার নির্দেশ অনুযায়ী, ইরানকে সে দেশে ম্যাচ খেলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফিরে যেতে হবে। শুধু তাই নয়, ম্যাচের দিন সকালে এসে খেলা শেষ করেই মেক্সিকোতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কোনও দেশের জাতীয় ফুটবল দলকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখা কতটা যুক্তিসঙ্গত?

বিশ্বকাপের মতো একটি আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণকারী দলগুলির জন্য সমান সুযোগ ও সম্মান নিশ্চিত করা আয়োজক দেশের দায়িত্ব। সেখানে ইরানের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রয়োগ করা হলে তা বৈষম্যমূলক বলেই মনে হবে। এতে শুধু খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ বাড়বে না, বরং তাদের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো ভিসা জটিলতা। দীর্ঘ টালবাহানার পর ইরানের ফুটবলাররা ভিসা পেলেও এখনও অনেক সাপোর্ট স্টাফ, প্রশাসক এবং কর্মকর্তার ভিসা ঝুলে রয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে একটি দলের সাফল্য শুধু মাঠের ১১ জন খেলোয়াড়ের উপর নির্ভর করে না; চিকিৎসক, ফিটনেস কোচ, বিশ্লেষক ও প্রশাসনিক কর্মীদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ভিসা আটকে রাখা কার্যত দলটির প্রস্তুতিকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল।

আমেরিকার বক্তব্য, শুধু ‘প্রয়োজনীয়’ ব্যক্তিদেরই ভিসা দেওয়া হবে। কিন্তু কোন ব্যক্তি প্রয়োজনীয় আর কে নয়, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কি আয়োজক দেশের একার? এ ধরনের অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই মনে হয়।

ইরানের ডিফেন্ডার এহসান হাজসফি এবং দেশটির কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা প্রকাশ্যে এই পরিস্থিতির সমালোচনা করেছেন। তাঁদের ক্ষোভ অমূলক নয়। বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক মঞ্চে কোনও দেশকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনে বারবার প্রশাসনিক বাধার মুখে ফেলা খেলাধুলার চেতনাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

খেলাধুলা মানুষের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলে, বিভাজন নয়। বিশ্বকাপ যদি সত্যিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব হয়, তবে সেখানে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে কোনও দলকে দ্বিতীয় শ্রেণির অংশগ্রহণকারীর মতো আচরণ করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নিরাপত্তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই অজুহাতে বৈষম্যকে বৈধতা দেওয়া আরও বড় সমস্যা। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত ফুটবলের, রাজনীতির নয়।