https://www.emjanews.com/

16189

international

প্রকাশিত

০৮ জুন ২০২৬ ০২:৪২

আন্তর্জাতিক

ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে কি আবার বড় সংঘাতের সূচনা?

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ ০২:৪২

ইরানের আন্ডার গ্রাউন্ড মিসাইল ঘাটি (ছবি: সংগৃহীত)

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। কয়েক মাসের নাজুক যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। এর মাধ্যমে তেহরান শুধু একটি সামরিক বার্তাই দেয়নি, বরং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে লেবানন ইস্যুতে তাদের ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করা হলে তারা সরাসরি জবাব দিতে প্রস্তুত।

গত কয়েক দিন ধরেই উত্তেজনা বাড়ছিল। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তার প্রতিক্রিয়া হবে বলে আগেই জানিয়েছিল তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কারণ ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, লেবাননে নতুন করে বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু হলে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।

কিছু সময়ের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হয়েছে বলেই মনে হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয়। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর রকেট হামলা অব্যাহত থাকে এবং তার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আবারও আঘাত হানে ইসরায়েল।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পাল্টা হামলা শুরু হয়।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযান শুধু এক দিনের নয়; প্রয়োজনে তা কয়েক দিন পর্যন্ত চলতে পারে। যদিও সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করার চেয়ে বরং ইসরায়েলকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত শক্তি প্রদর্শন।

তবে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো-ইসরায়েল কী করবে?

যদি ইসরায়েল সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে পাল্টা আঘাত হানে, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। আবার সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখালে উত্তেজনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এই সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন এখনও সংঘাত প্রশমনের চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু ইসরায়েলের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবং ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলবে।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আরেকটি বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের কেন্দ্র এখন শুধু গাজা নয়, বরং লেবানন। হিজবুল্লাহ, ইসরায়েল এবং ইরানের ত্রিমুখী সংঘাত পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। লেবাননের সীমান্তে যা ঘটছে, তার প্রতিধ্বনি পৌঁছে যাচ্ছে তেহরান, তেল আবিব এবং ওয়াশিংটন পর্যন্ত।

ফলে ইরানের এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য, আঞ্চলিক; জোট এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধ-শান্তির সমীকরণকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে। এখন বিশ্বের নজর তেল আবিবের দিকে; কারণ পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই সংঘাত সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আবারও মধ্যপ্রাচ্যকে ঠেলে দেবে এক বৃহত্তর যুদ্ধের দিকে।