https://www.emjanews.com/

16999

sylhet

প্রকাশিত

০৯ জুলাই ২০২৬ ১৯:১৭

সিলেট

সিলেটে জেলা পরিষদের ভূমি উদ্ধারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ ১৯:১৭

ছবি: ইমজা নিউজ

সিলেট জেলা পরিষদের মালিকানাধীন বেদখল হয়ে যাওয়া প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সালুটিকর বাজারে জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, সালুটিকর মৌজার ১৬২ নম্বর জেএল এবং ২ নম্বর খতিয়ানের ৪৭২, ৪৭৪ ও ৭৫৫ নম্বর দাগের অন্তর্গত প্রায় ৩০ শতক ভূমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে ছিল। লিজ ছাড়াই এই জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরী করে দোকানপাট এবং রাস্তার গোলচত্বর দখল করে আরও কিছু দোকানপাট বসিয়ে কিছু লোক ব্যবসা করে আসছিলো। এ ছাড়া সেখানে অবৈধভাবে একটি সিএনজি স্ট্যান্ড ও একটি মিনি পিক-আপ স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়।

জেলা পরিষদের এই অভিযানে অবৈধভাবে নির্মিত মোট ৭টি দোকান এবং দুটি স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে জমিটি সম্পূর্ণ অবমুক্ত ও জেলা পরিষদের নিজস্ব দখলে নিয়ে কাটা তারের বেড়া দেওয়া হয়।

উচ্ছেদ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল দায়িত্ব পালন করেন গোয়াইনঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি)।

অভিযান চলাকালে জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার, প্রশাসকের একান্ত সচিবসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত এই ভুমিতে জেলা পরিষদের উদ্যোগে কৃষকদের জন্য একটি আধুনিক ‘কৃষক বাজার’ মার্কেট ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন। এই বাজার নির্মানের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকদের সরাসরি তাদের উৎপাদিত পণ্য ন্যায্যমূল্যে ভোক্তার কাছে বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া। শিগগিরই মার্কেটের নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। 

তিনি আরও জানান, সরকারি সম্পদ রক্ষায় এবং অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত এই মূল্যবান জায়গায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে একটি আধুনিক ও সুপরিকল্পিত মার্কেট নির্মাণ করা হবে। নতুন মার্কেটটি নির্মিত হলে সালুটিকর বাজারের ব্যবসায়িক গুরুত্ব যেমন বাড়বে, তেমনি জেলা পরিষদের রাজস্ব আয়ও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা পরিষদের এই সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই জায়গাটি বেদখল থাকায় বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল। এখানে দ্রুত বহুতল মার্কেট নির্মাণ করা হলে এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে।

এই বিষয়ে জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এবং জনগণের কল্যাণে এ ধরণের উচ্ছেদ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। উদ্ধারকৃত জায়গায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে আধুনিক মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও তারা নিশ্চিত করেন।