https://www.emjanews.com/

16989

sylhet

প্রকাশিত

০৯ জুলাই ২০২৬ ১৪:৩৪

আপডেট

০৯ জুলাই ২০২৬ ১৪:৩৫

সিলেট

সিলেটে নদীর পানি বৃদ্ধি: বন্যা ও টিলা ধসের শঙ্কা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ ১৪:৩৪

সিলেটে টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে আকস্মিক বন্যা ও টিলা ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে এবং ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করে সেসব এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে সিলেটজুড়ে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ভারতের মেঘালয় ও আসাম থেকে ঢল নামছে। এর প্রভাবে সুরমাসহ বিভিন্ন নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে বিভাগের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা জানান, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ টিলা এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কতা জারি করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “জেলায় ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করা হয়েছে। ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও বাড়ানো হবে। এছাড়া সব উপজেলায় শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে এবং মাঠ প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিন মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেটের নদ-নদীর পানির স্তর আরও বাড়তে পারে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় ফ্ল্যাশ ফ্লাড দেখা দিতে পারে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া সুরমা নদীর পানি অমলশিদ ও কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা’র সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার বলেন, সরকারি হিসাবে ঝুঁকিপূর্ণ টিলার সংখ্যা ১৬০টি হলেও বাস্তবে তা আরও বেশি। প্রায় ৩৮৬টি পরিবার এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টিলা ধসে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নির্বিচারে টিলা কাটাই ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, উজানের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা কম হলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি কর্পোরেশন প্রস্তুত রয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে নিয়মিত কাজ চলছে এবং নিচু এলাকায় পানি জমলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারেও পানি বৃদ্ধি

এদিকে টানা বৃষ্টি ও ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা ঢলে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার নদ-নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। এতে দুই জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, জেলার খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বাল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার, শায়েস্তাগঞ্জে ৯৯ সেন্টিমিটার এবং মাধবপুরে ১৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এছাড়া মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার এবং আজমিরীগঞ্জে কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুতাং নদীর পানিও শায়েস্তাগঞ্জে বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে।

হবিগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬১ দশমিক ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। হাওরগুলো প্রায় পূর্ণ থাকায় নতুন পানি ধীরগতিতে নিষ্কাশিত হচ্ছে, ফলে নদীগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, জেলার পাঁচটি পয়েন্টের মধ্যে তিনটিতে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। মনু নদীর পানি রেলওয়ে ব্রিজ ও চাঁদনীঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়ে কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।