https://www.emjanews.com/

17004

surplus

প্রকাশিত

০৯ জুলাই ২০২৬ ২০:১০

অন্যান্য

সিলেটে ১৬ জুলাই শুরু রথযাত্রা মহোৎসব

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ ২০:১০

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), যুগলটিলা, সিলেটের উদ্যোগে আগামী ১৬ থেকে ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসব।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, জাতীয় পর্যায়ের অতিথিদের অংশগ্রহণ, বৈচিত্র্যময় কর্মসূচি এবং বিপুল ভক্তসমাগমের কারণে এবারের রথযাত্রা হবে সিলেটের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজন।

১৬ জুলাই মহোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। একই দিন বিকেল ৩টায় যুগলটিলা মন্দির থেকে শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রার সুসজ্জিত রথ নগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করবে।

১৭ জুলাই বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির আহমদ। এদিন ভজন-কীর্তন, ইসকন ইয়ুথ ফোরামের সেমিনার, সনদপত্র বিতরণ, জগন্নাথদেবের মহিমা কীর্তন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।

মহোৎসবের সমাপনী দিন ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে প্রধান অতিথি থাকবেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিকেল ৩টায় যুগলটিলা মন্দির থেকে উল্টো রথযাত্রা শুরু হয়ে নগর প্রদক্ষিণ শেষে মন্দিরে ফিরে আসবে। সন্ধ্যায় আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে নয় দিনের এ আয়োজন।

মূল কর্মসূচির আগে ১৫ জুলাই সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে শাস্ত্রীয় আচার ‘গুন্ডিচা মন্দির মার্জন’। এর মাধ্যমে ভক্তরা রথযাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন করবেন।

১৬ জুলাই দুপুর ১২টায় মহাভোগরাগ ও ভোগারতি দর্শনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। পরে আলোচনা সভা, মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং বর্ণাঢ্য রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় গৌরসুন্দরের আরতি এবং ভক্তিবেদান্ত ক্লাসিক্যাল মিউজিক একাডেমির পরিবেশনায় ভজন সঙ্গীত পরিবেশিত হবে।

১৮ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন মহাভোগরাগ, ভোগারতি, জগন্নাথদেবের মহিমা কীর্তন, ভজন-কীর্তন, গৌর আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে নামহট্ট ‘বিনোদন আনন্দধারা’, ২০ জুলাই (হেরা পঞ্চমী) বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈদিক নাটক। এছাড়া ২১ ও ২২ জুলাই বৈদিক নাটক এবং ২৩ জুলাই বিশেষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, সেবা ও মানবিক মূল্যবোধের এক মহামিলন। প্রতি বছর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী সিলেটে আসেন। এবারও কয়েক হাজার ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভক্তদের জন্য প্রতিদিন মহাপ্রসাদের ব্যবস্থা, সুশৃঙ্খল নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা, স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রম এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও ইসকন, যুগলটিলা, সিলেটের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ বলেন, ‘শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ভক্তি, প্রেম ও সেবার উৎসব। রথের দড়ি টানা, হরিনাম সংকীর্তনে অংশগ্রহণ এবং মহাপ্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে প্রত্যেকেই ভগবানের বিশেষ কৃপা লাভের সুযোগ পান। তাই এই মহোৎসবে সবাইকে মন্দিরে এসে জগন্নাথদেবের দর্শন ও আশীর্বাদ গ্রহণের জন্য আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।’