ওসমানী বিমানবন্দরের কর্মকর্তা ৩ সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ: কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশ্ন পরিবারের
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ ১৫:১৯
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিন (২৬) নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর তাঁর জীবিত উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবার। এ সময় জিডিতে উল্লেখিত নিখোঁজের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তথ্য গোপনের অভিযোগ করেন তাঁর মা ফরিদা ইয়াসমীন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি জানান।
শনিবার সিলেটে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৮ জুলাই ২০২৬ সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জি-টাইপ কোয়ার্টার থেকে আরিফুল্লাহ জেলিন নিখোঁজ হন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরিবারের দাবি, তারা ঠাকুরগাঁও থেকে সিলেটে পৌঁছানোর আগেই জেলিনের সহকর্মী ও বন্ধু পরিচয়ে ধনঞ্জয় কুণ্ডু (পিয়াস) এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির ট্র্যাকিং নম্বর W703Z3 এবং জিডি নম্বর ৪২৭, যা ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে নথিভুক্ত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলিনের মা ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, তাঁর ছেলে নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ভিডিও কলে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তখন তিনি বিমানবন্দর আবাসিক কোয়ার্টারেই ছিলেন। অথচ জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৮ জুলাই বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় তিনি নিখোঁজ হন।
তিনি বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। তাহলে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে নিখোঁজ হওয়ার কথা জিডিতে কীভাবে লেখা হলো? এই প্রশ্নের উত্তর আমরা এখনো পাইনি।'
ফরিদা ইয়াসমীনের অভিযোগ, এ তথ্যগত অসঙ্গতি থেকে তাঁদের সন্দেহ হচ্ছে যে, ঘটনার প্রকৃত তথ্য কেউ গোপন করছেন। তাই জিডিকারীসহ ওই সময়ে জেলিনের সঙ্গে যোগাযোগে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানান তিনি।
পরিবারের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আরিফুল্লাহ জেলিনের ব্যক্তিগত জীবনে পরিচিত কোনো শত্রু ছিল না। তবে কর্মস্থলে কোনো সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে তিনি নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন বলে তাঁদের সন্দেহ। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে জেলিনের সহকর্মী ধনঞ্জয় কুণ্ডু পরিবারে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে, তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
