স্টেডিয়ামপাড়া ঘুরে হতাশ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, পরিবেশ ফেরানোর প্রতিশ্রুতি
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ ২১:১৩
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে ক্রীড়া অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। জাতীয় স্টেডিয়াম, মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন ক্রীড়া স্থাপনা ঘুরে দেখে তিনি ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
পরিদর্শনের শুরুতে জাতীয় স্টেডিয়ামের নতুন লাগানো ঘাসে কিছুক্ষণ সময় কাটান সাবেক এই জাতীয় ফুটবলার। নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে স্টেডিয়ামে নতুন ঘাস লাগানো হয়েছে। খেলোয়াড়ি জীবনের স্মৃতিময় এই মাঠ ঘুরে দেখার পর পুরো স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে আমিনুল হক বলেন, ‘সত্যি আমি ভীষণ হতাশ হয়েছি। আমাদের ঐতিহ্যবাহী জাতীয় স্টেডিয়াম, হকি স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন ক্রীড়া অবকাঠামোতে আমরা খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই। কিন্তু স্টেডিয়ামপাড়াকে এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়নি।’
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সকে ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ সময় তার সঙ্গে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ কমিশনার, কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন), ক্রীড়া পরিচালক জাহেদ পারভেজ চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনে স্টেডিয়াম এলাকার বিভিন্ন অসংগতি চোখে পড়ে ক্রীড়া উপদেষ্টার। যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, ফুটপাত দখল এবং সন্ধ্যার পর মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এসব সমস্যা সমাধানে স্টেডিয়াম এলাকায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং পুলিশ মোতায়েনের ঘোষণা দেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার পর যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্টেডিয়াম এলাকার দোকান মালিকদেরও সতর্ক করে তিনি বলেন, পথচারীদের চলাচলের পথে পণ্য বা সরঞ্জাম রাখা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে থাকা দোকানগুলোর লিজ ও ভাড়ার বিষয়ে নতুন করে মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালককে এক সপ্তাহের মধ্যে সব দোকানের লিজ, ভাড়া ও চুক্তির তথ্য হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘সরকার ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ যে রাজস্ব পাওয়ার কথা, তা পাচ্ছে না। কোথাও কোথাও প্রতি বর্গফুটের ভাড়া এখনো ১৭, ২০ বা ২২ টাকা। এসব বিষয় পুনর্মূল্যায়ন করে বাস্তবসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।’
স্টেডিয়াম এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
