শিরোনাম
সীমান্তে অপরাধ মোকাবিলায় ডিজিটাল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটে টাওয়ার থেকে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত লা/শ উদ্ধার সিলেটে হাম পরিস্থিতির অবনতি: ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১৫৪, মৃ/ত্যু আরও ২ নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সিএনজির দৌরাত্ম্য, বাড়ছে দুর্ঘ.টনার ঝুঁকি সিলেটসহ দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে পল্লব, কারা/গারে প্রেরণ সিলেটে মৃ/ত্যুহীন দিনে হাম উপসর্গে ভর্তি ১৩৮ জন প্রবাসীদের বিমান ভাড়া নিয়ে সুখবর, কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার হবিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত সিলেটে টাকা ফেরত চাওয়ায় ভাইয়ের হাতে বোন খু/ন

https://www.emjanews.com/

18261

national

প্রকাশিত

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:২২

জাতীয়

বিদায় সংবর্ধনার অপেক্ষায় বিদ্যালয়, এল শিক্ষকের মরদেহ

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:২২

ছবি: সংগৃহীত

একটি বিদায়ের দিন ছিল। দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিনে প্রিয় শিক্ষককে ফুল, স্মারক আর ভালোবাসায় বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।

কিন্তু সেই বিদায় যে এতটা নির্মম ও নীরব হবে, তা কেউ ভাবেননি।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রাধাসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার সাহার (৫৯) জন্য সোমবার দুপুরে ছিল অবসর উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনা। অথচ তার আগেই ভোরে নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন তিনি। তাঁর শেষ কর্মদিবসের সকালেই বিদ্যালয়ের আনন্দের আয়োজন পরিণত হয় শোকের দিনে।

সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা যখন তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই আসে তাঁর মৃত্যুর খবর। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে চাঁদপুর শহরের নিজ বাসায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগও হয়নি।

যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে হাসিমুখে বিদায় জানানোর কথা ছিল, সেখানেই আসে তাঁর নিথর দেহ। মুহূর্তে বদলে যায় পুরো পরিবেশ। ফুল, স্মারক আর সংবর্ধনার আয়োজন ছাপিয়ে বিদ্যালয়জুড়ে নেমে আসে কান্নার আবহ।

সহকর্মী লিমা আক্তার বলেন, দুপুরে তপন কুমার সাহাকে সংবর্ধনা ও স্মারক দেওয়ার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই ভোরে খবর আসে, তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা গেছেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষকতা করা তপন কুমার সাহা রেখে গেছেন স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে।

তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁরা সবাই শোকাহত।

বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রবিউল আলম ওই বিদায় অনুষ্ঠানের অতিথি ছিলেন। তাঁরও কথা ছিল, জীবনের একটি অধ্যায় শেষ করে তপন কুমার সাহাকে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা ভালোবাসা দিয়ে বিদায় জানাবেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বিদায় হলো অন্যরকম। যে মানুষটি প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের পাঠ দেওয়ার কথা ছিল, তাঁর পরিবর্তে সেদিন বিদ্যালয়ে পৌঁছাল তাঁর মরদেহ।

জীবনের শেষ কর্মদিবসটি তাঁর জন্য হয়ে রইল শেষ উপস্থিতির দিন-যেখানে বিদায়ের ফুল হাতে অপেক্ষা করছিলেন প্রিয়জনেরা, অথচ তাঁকেই শেষবারের মতো বিদায় জানাতে হলো অশ্রুসিক্ত চোখে।