ছবি: সাবেক আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার সার্জিও আগুয়েরো।
আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান ও অর্থপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত একটি চক্রের বাণিজ্যিক প্রকল্পে সাবেক আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার সার্জিও আগুয়েরোর নাম জড়িয়েছে। তবে আর্জেন্টাইন আদালতের তদন্ত নথিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, আগুয়েরো এই মামলার আসামি বা অভিযুক্ত নন।
তদন্তকারীদের ধারণা, তার আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও ব্র্যান্ড মূল্যকে কাজে লাগিয়েই আর্থিক সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সন্দেহভাজন অপরাধী চক্রটি।
বিচারক পাবলো ইয়াদারোলার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত তদন্তে উঠে এসেছে, একটি টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম চালুর আড়ালে আগুয়েরোকে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির মাধ্যমে সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ডের আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং অর্থপাচারের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা ছিল চক্রটির।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক সন্দেহভাজনদের ফোন জব্দ করে পাওয়া বার্তা ও নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য সামনে এসেছে। উদ্ধার হওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুয়েরোর প্রতিষ্ঠিত ই-স্পোর্টস ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘ক্রু টিকিটস’ নামে একটি ব্র্যান্ড চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই চক্র বলিভিয়া থেকে কোকেন এবং স্পেন থেকে সিন্থেটিক মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পুলিশ ইতোমধ্যে চক্রটির অন্যতম সন্দেহভাজন পিবট আলভারেজসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর আলভারেজ অনশন শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।
মামলার নথিতে চক্রটির সদস্যদের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া বেশ কিছু বার্তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে দিয়েগো ফ্রান্সিসকো আনজালনি, বোনো ওজি দে কারলুচি, রাউল ওমার ব্রুহো মানজোনি এবং আলভারেজের নাম রয়েছে। আভেলিয়ানেদা শহরের ইন্ডিপেনদিয়েন্তে স্টেডিয়ামের কাছে রিকার্দো বোচিনি স্ট্রিটের একটি আস্তানায় তাদের কিছু কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি এক বার্তায় আনজালনি তাঁর সহযোগী দে কারলুচিকে জানান, টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম নিয়ে তিনি দ্রুতই আগুয়েরোর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করবেন। পরে একাধিক শেল বা ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে প্রকল্পটি পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। এসব কোম্পানির একটির সঙ্গে একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততা ছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তি চূড়ান্ত করতে ২২ এপ্রিল মেক্সিকো সফরের কথাও নথিতে উঠে এসেছে। আনজালনি তার মধ্যস্থতাকারীদের জানান, তিনি আগুয়েরোর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন। প্রকল্পের প্রাথমিক মূলধনে আগুয়েরোকে কোনো অর্থ দিতে না হয়, সে জন্য আনজালনি নিজেই প্রায় ১০ হাজার ইউরো সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুরো বিষয়টি বর্তমানে আদালতের আইনি পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, এখন পর্যন্ত আদালতের কোনো নথিতে সার্জিও আগুয়েরোর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়নি। বরং তদন্তে তার নাম উঠে এসেছে মূলত সন্দেহভাজন চক্রের বাণিজ্যিক পরিকল্পনায় তার খ্যাতি ও ব্র্যান্ড মূল্য ব্যবহারের সম্ভাব্য প্রচেষ্টার সূত্র হিসেবে।
